সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রঞ্জি ট্রফিতে এক বছর পর ইডেন গার্ডেন্সে খেলতে নেমেছে বাংলা দল। আর মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর ছেলেদের প্রাপ্তি একরাশ উৎকণ্ঠা।
মহারাষ্ট্রকে বাগে পেয়েও অল আউট করতে পারল না বাংলা। উল্টে প্রথম ইনিংসের লিড হজম করল। বাংলার প্রথম ইনিংসে তোলা ১৪৩ রানের জবাবে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে মহারাষ্ট্রের স্কোর ২০৭/৯। ৬৪ রানে এগিয়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্র।
সবচেয়ে বড় কথা, অবিচ্ছেদ্য দশম উইকেটে ১২৮ বলে ৪৯ রান যোগ করে ক্রিজে রয়েছেন তনয় সাঙ্ঘভি ও প্রদীপ দাধে। তাঁদের লড়াকু পার্টনারশিপ ১৫৮/৯ হয়ে যাওয়ার পরেও মহারাষ্ট্রের স্কোর দুশো পার করে দিয়েছে। ১৬৭ বলে ৫৭ রান করে ক্রিজে তনয়। ৫৯ বলে ২২ রানে অপরাজিত দাধে।
সোমবার ম্যাচের প্রথম দিন খেলা হয়েছিল ৪৪.৫ ওভার। পড়েছিল ১২ উইকেট। মন্দ আলোর জন্য একটা সেশনের খেলা নষ্ট হয়। মঙ্গলবার, ম্যাচের দ্বিতীয় দিনও পুরো ওভার খেলা করা যায়নি। দুপুরের পরই আকাশ মেঘলা হয়ে আলো পড়ে আসে। ৭১ ওভার খেলা হয়। সারাদিনে পড়ল ৮ উইকেট।
সোমবার শেষ লগ্নে পরপর ২ বলে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ফুঁসছিলেন মহম্মদ শামি। ইনস্যুইঙ্গারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন পৃথ্বী শয়ের অফস্টাম্প। দিনের খেলার শেষে বাংলার সেরা ফাস্টবোলার শামি আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘গা যখন গরম হল, ঠিক তখনই খেলা বন্ধ হয়ে গেল। না হলে আরও উইকেট পেতাম। ঠিক আছে, কাল সকালে দেখে নেব।’
মঙ্গলবার সকালটা বাংলার বোলিংয়ের শুরুটা খারাপ হয়নি। অঙ্কিত বাওনেকে বোল্ড করে দেন শামির ভাই মহম্মদ কাইফ। কিছুক্ষণ পরে তিন বলের ব্যবধানে ফেরেন সচিন ধাস ও হর্ষল কাটে। প্রথমজনকে ফেরান সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল। হর্ষলকে ফেরান কাইফ। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার সিদ্ধেশ বীরকে তুলে নেন শামি। ৬৪/৬ হয়ে যায় মহারাষ্ট্র। বাংলা শিবির তখন একশো রানের মধ্যে মহারাষ্ট্রকে অল আউট করার স্বপ্নে বিভোর।
তবে অন্যরকম কিছু ভেবেছিলেন মহারাষ্ট্রের লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা। সপ্তম উইকেটে যোগ হয় ৩৮ রান, অষ্টম উইকেটে ৪৪ রান। নবম উইকেট দ্রুত পড়লেও দশম উইকেট ভোগাচ্ছে বাংলাকে।
বাংলা শিবিরে অবশ্য দিনের শেষে ক্ষোভ আম্পায়ারিং নিয়ে। বলা হল, ৩০ রানের মাথায় তনয় সাঙ্ঘভি এলবিডব্লিউ ছিলেন। দেওয়া হয়নি। বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল বললেন, ‘উইকেট সহজ হয়ে গিয়েছে। আমাদের বোলাররা ভাল বল করেছে।’
