Last Updated:

Taki Tourism: ১৯৩১ সালে জমিদারি আমলে নির্মিত ২৫ ফুটের বিশালাকার টিউবওয়েল! অবিভক্ত বাংলার ইতিহাস বুক আগলে দাঁড়িয়ে উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে। দীর্ঘ অবহেলার পর এবার এটি সংরক্ষণে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা। ইতিহাস সংরক্ষণ করে এই জায়গাটি দর্শনীয় করে তোলার চেষ্টা চলছে।

+

বিশাল

বিশাল নলকূপকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের উৎসাহ তুঙ্গে

বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা,জুলফিকার মোল্যা: উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর টাকি। ইছামতীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যের নানা নিদর্শন। কোথাও পুরনো জমিদারবাড়ি, কোথাও প্রাচীন মন্দির, আবার কোথাও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু পুরনো স্থাপত্য। সেই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির মধ্যে অন্যতম টাকির সোদপুরের প্রায় ৯৫ বছরের প্রাচীন নলকূপ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ইংরেজি ১৯৩১ সালে তৎকালীন ইংরেজ শাসনাধীন জমিদারি আমলে এই নলকূপটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় পানীয় জলের অন্যতম ভরসা ছিল এই নলকূপ।

শুধু টাকি বা আশপাশের এলাকার মানুষই নন, অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরা-সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও সাধারণ মানুষ এখানে জল নিতে আসতেন বলে জানা যায়। সেই সময়ের জনজীবন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের চাহিদার সঙ্গে এই নলকূপের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। কালের নিয়মে আজ সেই নলকূপের কার্যকারিতা হারিয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সময়ের প্রভাবে তার গায়ে পড়েছে জীর্ণতার ছাপ। তবে অকেজো হয়ে গেলেও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন এই স্থাপত্য। প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার নলকূপটি অতীতের এক অধ্যায়কে নীরবে বহন করে চলেছে। তার ভগ্নপ্রায় চেহারার মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে এক সময়ের জনজীবন ও ঐতিহ্যের স্মৃতি।

আরও পড়ুন: পাহাড় যাওয়ার নতুন বাস, বায়ো-টয়লেট, আরামদায়ক বার্থ-সহ বহু সুবিধা! কোন রুট, কত ভাড়া জানুন

বর্তমানে টাকিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও এই প্রাচীন নলকূপ অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। শহরের পরিচিত পর্যটনস্থলগুলির পাশাপাশি ইতিহাসপ্রেমী অনেকেই সোদপুরে এসে এই পুরনো স্থাপত্যটি দেখেন। সময়ের সঙ্গে টাকির পর্যটন মানচিত্রে নতুন নতুন আকর্ষণ যুক্ত হলেও, প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই নলকূপের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও আলাদা। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই ঐতিহ্যকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিকের পর জেদের বশে কেনা গিটারেই বাজিমাত, গানের টানে ছেড়েছেন মোটা মাইনের চাকরি

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজেদের উদ্যোগে প্রাচীন নলকূপটি সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। তাদের লক্ষ্য, পুরনো স্থাপত্যের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা, যাতে আগামী প্রজন্মও টাকির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সম্পর্কে জানতে পারে। একসময় যে নলকূপের জল সংগ্রহ করতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে ইতিহাসের স্মারক। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা, কিন্তু টাকির সোদপুরের এই প্রাচীন নলকূপ আজও মনে করিয়ে দেয় অতীতের কথা। যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য টাকির ঐতিহ্যবাহী পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *