সন্দীপ সরকার, কলকাতা: এই ম্যাচকে বলা হচ্ছিল ভারতীয় ক্রিকেটে দুই উপেক্ষিত তারকার দ্বৈরথ।

একজন মহম্মদ শামি। যিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করেও নির্বাচকদের খাতায় ব্রাত্য। অন্যজন পৃথ্বী শ। ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। শুভমন গিলরা খেলেছেন তাঁর নেতৃত্বে। এখন শুভমন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। আর পৃথ্বী রাজ্য দল থেকেও কার্যত বাতিল। এখন খেলছেন মহারাষ্ট্রের হয়ে। দলের অধিনায়কও তিনি।

ইডেনে রঞ্জি ট্রফির প্রথম দিন অবশ্য দ্বৈরথ জিতলেন শামি। তাঁর আগুনে স্পেলের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না পৃথ্বী। শামি তাঁর অফস্টাম্পে ফেলে বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন বল। আচমকা একটি ভিতরে ঢোকালেন। তাতেই ব্যাট-প্যাডের মধ্যে দিয়ে ছিটকে গেল স্টাম্প। ২১ বলে ১২ রান করে বোল্ড পৃথ্বী। শামির ইনস্য়ুইংয়ের 

পরের বলেই তিন নম্বরে নামা দিগ্বিজয় পাটিলের উইকেট তুলে নিলেন শামি। বল আছড়ে পড়ল দিগ্বিজয়ের প্যাডে। জোরাল আবেদনে আঙুল তুলে দিলেন আম্পায়ার। হ্যাটট্রিকের গন্ধ পেয়েছিলেন শামি। তবে তাঁর ওভারের তৃতীয় বলটি কোনওমতে ঠেকিয়ে দিলেন অঙ্কিত বাওনে। হ্যাটট্রিক হল না।

ইডেন গার্ডেন্সের হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে শামির আগুনে স্পেলই ম্যাচে ফিরিয়েছে বাংলাকে। মহারাষ্ট্রের স্কোর তখন ৮ ওভারে ২১/২, আলো কমে আসায় খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। ঘড়িতে তখন ১.৫২। চা পানের বিরতি নেন আম্পায়ার। যাতে সময় নষ্ট না হয়। কিন্তু আলোর উন্নতি না হওয়ায় সাড়ে তিনটে নাগাদ দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ক্রিজে রয়েছেন বাওনে (২ ব্যাটিং) ও সিদ্ধেশ বীর (৭ ব্যাটিং)। এখনও ১২২ রানে পিছিয়ে মহারাষ্ট্র।

শামির স্পেল যদি অক্সিজেন হয়, তবে দম বন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি করল ব্যাটিং।

প্রথমে ব্যাট করে অবশ্য ভরাডুবি হয় বাংলার। মাত্র ১৪৩ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার প্রথম ইনিংস। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লাঞ্চের আগে প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে বাংলার স্কোর ছিল ১০১/৭। লাঞ্চের পর আর ১০.৫ ওভারেই শেষ বাংলার ইনিংস। আর ৪২ রান যোগ করে। মহারাষ্ট্রের বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট প্রদীপ দাধে ও তনয় সাঙ্ঘভির। ২টি করে উইকেট রাজবর্ধন হাঙ্গরগেকর ও সিদ্ধেশ বীরের।

একমাত্র অভিষেক পোড়েল আর কিছুটা প্রদীপ্ত প্রামাণিক ছাড়া আর কেউই ব্যাট হাতে লড়াই করতে পারেননি। পোড়েল ৫৪ রান করেন। ৩১ রান করেন প্রদীপ্ত। দিনের খেলার শেষে ব্যাটিং নিয়ে হতাশ শোনাল কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লকেও। পাশাপাশি লক্ষ্মী বললেন, ‘আলো কমে আসায় খেলা বন্ধ হল। না হলে শামি যা বল করছিল আরও কয়েকটি উইকেট পেত।’



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *