
২৭ নভেম্বর পুর ভোট, তাঁর আগে এই কেলেঙ্কারির প্রকাশ নিঃসন্দেহে গোটা নির্বাচনের জন্য এক নতুন আলো। নেতারা পদে বসার আগে যতই শপথ নিক দূর্নিতী করবে না কিন্তু বাস্তবে যে নেতা আর দূর্নিতী সমার্থক শব্দ তা তারা তাদের কার্যকালে প্রমাণিত করে দেয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তো নেতা পদে বসার আগেই দূর্নিতীর কালো জাল বিস্তার করে নিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যখন এই নেতা বলছেন “আমাকে সুযোগ করে দেন” তখন যেন আমাদের কানে বাজছে “আমাকে মাল কামানোর সুযোগ করে দেন”। আজব দুনিয়া এইসব দুর্নীতিবাজ লোকেদের দল তাও আবার শাসক দল টিকিট দেয় কি করে? কোন রাজ্য স্থরের নেতার কথায় এই টিকিট বাগিয়ে নিতে সক্ষম হল বিট্যু নামক নেতাটি? গোটা ইস্ট জোনে বিট্যু এবং তাঁর সাগরেদরা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে লাখ লাখ মানুষ কে বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গোটা ইস্ট জোনের আওতায় থাকা একটি ফ্ল্যাট বাড়ির ও নেই আগরতলা পুর নিগমের বৈধ কাগজ পত্র। যেই ব্যাক্তি পুরনিগমে না থেকেও এতটা প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের দূর্নীতি করতে পারে সেই ব্যাক্তি কাউন্সিলর হলে দুর্নীতির মাত্রা কোন পর্যায়ে যাবে দল কি অনুভব করতে পারছে? নাকি কোন রাজ্য নেতার সুপারিশেই টিকিট কনফার্ম করে দল খালাস? এলাকাবাসী সূত্রে দাবী ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রার্থী থাকলে গো হারা হারবে দল। এমনকি দলের কর্মীরাও এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে যাবেন। গোটা ইস্ট জোনে এই প্রার্থীর কালো ছায়া রয়েছে। সম্পুর্ণ ইস্ট জোনে মোট ৫৩৬০ টি বিল্ডিং প্ল্যান এপ্রুভ হয়েছে যার মধ্যে ৮১ টি ফ্ল্যাট বাড়ির প্ল্যান রয়েছে। আপনারা জানলে অবাক হবেন এই ৮১ টি ফ্ল্যাট বাড়ির একটির ও নেই পুরো নিগমের বৈধ কাগজপত্র। শুধুই কি তাই? একটির ও নেই occupancy certificate এবং Completion certificate. অর্থাৎ এই বাড়ি গুলোতে যারা থাকছেন তারা ঈশ্বর ভরসায় রয়েছেন এবং এই বিট্যুর কথায় যারা ফ্ল্যাট কিনেছেন যে কোনো সময় তাদের ফ্ল্যাট খালি করে দিতে হতে পারে যদি পুরো নিগম সঠিকভাবে নিয়ম মেনে পদক্ষেপ গ্রহন করে। এই ৮১ টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২ টি ফ্ল্যাট রয়েছে স্বয়ং বিট্যু সাহবের। নাম কৃষ্ণকালী এপার্ট্মেন্ট ১ এবং কৃষ্ণকালী এপার্ট্মেন্ট ২। এই দুটির একটিরও নেই বৈধ কোনো কাগজপত্র।

নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এবং হুমকি ধমকি দিয়ে নিজেকে পাতি মাফিয়া বলে দিনের পর দিন চালিয়ে গেছে এই দুর্নীতি। কিন্তু কে কি বলে। এবার একধাপ এগিয়ে এই পাতি মাফিয়া বিট্যু কাউন্সিলরের টিকিট হাতিয়ে নিয়েছে। গোটা এলাকা জুড়ে একটি দোকানের নেই ট্রেইড লাইসেন্স সূত্রের গোটা চক্রের পেছনেই রয়েছে এই বিট্যু নামক প্রার্থী। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই পুর নিগম কি শীত ঘুমে রয়েছে? কোনো নজরদারি কি নেই এই ব্যাক্তির জন্য? কেন ছাড় তাঁকে? এই ব্যাক্তি উপরে উপরে রাম নাম করলেও ভেতরে ভেতরে রাম রাজ্যের প্রধান তথা রাজ্যের প্রসাশনিক প্রধানকে নিয়েও এক আড্ডায় বসে নানান গালিগালাজ করেছেন, এছাড়া শহরের এক কোনায় বসে প্রতিনিয়ত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে নিয়ে গালিগালাজ করে থাকেন বলেও খবর আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু কি এমন মন্ত্র বলে টিকিট বাগিয়ে নিলেন এটাই এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন। চন্দ্রপুর ISBT তে রাতের অন্ধকারে যে মাদক কারবারী চলে তা-ও এই বিট্যুর নেতৃত্বে চলে বলে খবর। আমাদের ধারাবাহিক সিরিজে আমরা তুলে ধরব সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য! এখন এটাই দেখার এই দূর্নীতি গ্রস্থ ব্যাক্তির দূর্নীতি তুলে ধরার পর কুশভাও ভবন কি পদক্ষেপ নেয়! এলাকাবাসী সূত্রে দাবী যদি এই প্রার্থী পরিবর্তন না হয় তাহলে উক্ত কেন্দ্রে শাসক বিজেপি গো-হারান হারবে তা নিশ্চিত!

