ওইজন চারজন আইআইটি স্নাতক জানতে পেরে হতবাক হয়ে যান, একজন ফুচকা বিক্রেতা তাঁর এই ছোট ব্যবসা থেকে কত টাকা উপার্জন করেন। রাস্তার ওই বিক্রেতার সঙ্গে তাঁদের কথাবার্তা শুরু হয়েছিল সাধারণ আলাপচারিতার মাধ্যমে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আলোচনা গড়ায় অর্থ উপার্জন, ব্যবসা শুরু করা এবং কর্পোরেট চাকরি নিয়ে।

আইআইটি গুয়াহাটির স্নাতক বৈষ্ণবী শ্রীবাস্তব ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি শেয়ার করেন। ভিডিওতে তাঁর আরও তিন বন্ধুকে দেখা গিয়েছে, যাঁরা আইআইটি দিল্লি, আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি হায়দরাবাদে পড়াশোনা করেছেন।

ফুচকা বিক্রেতার মাসিক ব্যবসায় লাভের পরিমাণ ১.২ লক্ষ টাকা শুনে চমকে যান ওই চার পড়ুয়া। তবে শুধু এই তথ্যই নয়, কথোপকথন এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ওই বিক্রেতার কাজের সময়, ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং জীবনযাপন সম্পর্কেও আরও অনেক কিছু জানতে পারেন।

ফুচকা বিক্রেতার মাসিক লাভ ১.২ লক্ষ টাকা:

ভিডিওতে দেখা যায়, ফুচকা বিক্রেতার উপার্জনের কথা জানার পর তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন বৈষ্ণবী শ্রীবাস্তব। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বন্ধুরা, আমরা রীতিমতো হতবাক! কারণ আমরা একজন ফুচকা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আর জানেন, তাঁর মাসিক আয় কত? ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এটাই তাঁর লাভ।”

তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই ১.২ লক্ষ টাকা হল সমস্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর তাঁর লাভের অঙ্ক, মোট বিক্রির পরিমাণ নয়। একটি ছোট খাবারের ব্যবসা থেকেও যে এত টাকা উপার্জন করা সম্ভব, তা জানতে পেরে রীতিমতো অবাক হয়ে যান ওই পড়ুয়ারা।

এরপর কথোপকথনে উঠে আসে ওই বিক্রেতার ব্যবসার আরও একটি দিক, তাঁর কাজের সময়। ওই পড়ুয়াদের কথায়, বিকেল ৪টে থেকে তিনি ফুচকা বিক্রি শুরু করেন এবং রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করেন। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা কাউন্টারে সময় দেন তিনি।

ওই পড়ুয়ারা আরও জানান, “তিনি মাত্র ছয় ঘণ্টা কাজ করেন। বিকেল ৪টের সময় আসেন এবং রাত ১০টায় চলে যান। তিনি নিজেই নিজের বস। তাঁর ইচ্ছা হলে রবিবারেও দোকান খুলতে পারেন, আবার ইচ্ছা হলে বন্ধও রাখতে পারেন।”

ফুচকা বিক্রেতার উপার্জনের কথা শুনে আইআইটি-র এক স্নাতক মজার ছলে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। বিক্রেতার আয়ের অঙ্ক শুনে তাঁরা হাসতে হাসতে বলেন, “হে ভগবান! আপনারা তো আমাদের লজ্জায় ফেলে দিচ্ছেন। আমাদের মুখের দিকে তাকাবেন না!”

বিক্রেতার চারটি ফুচকার স্টল, মাসে মোট লাভ ৪.৫ লক্ষ টাকা:

ওই পড়ুয়াদের মনে হচ্ছিল, ফুচকা বিক্রেতার উপার্জনের কথা শুনেই তাঁরা যথেষ্ট অবাক হয়েছেন। কিন্তু এরপর তাঁরা জানতে পারেন, যে স্টলে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেটি আসলে তাঁর ব্যবসার একটি মাত্র অংশ।

ওই পড়ুয়াদের কথায়, ওই বিক্রেতার আরও তিনটি একই ধরনের স্টল রয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে তাঁর মোট স্টলের সংখ্যা চারটি। এর ফলে তাঁর সম্মিলিত মাসিক লাভ তাঁদের পরিদর্শন করা স্টল থেকে পাওয়া ১.২ লক্ষ টাকার তুলনায় অনেকটাই বেশি।

ওই পড়ুয়ারা জানান, “এটাই তাঁর একমাত্র স্টল নয়। এই ধরনের আরও তিনটি স্টল রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে তাঁর মাসিক লাভ ৪.৫ লক্ষ টাকারও বেশি।”

ফুচকা বিক্রেতার নিজের বাড়ি ও স্করপিও গাড়ি রয়েছে:

অন্য একটি ভিডিও ক্লিপে বৈষ্ণবী শ্রীবাস্তব জানান, ওই ফুচকা বিক্রেতা ভাড়া বাড়িতে থাকেন না, বরং তাঁর নিজের বাড়ি রয়েছে। তাঁর কাছে একটি স্করপিও এসইউভি গাড়িও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ভিডিয়োটি শেয়ার করার সময় ক্যাপশনে লেখা হয়, “এটা আইআইটিয়ান বনাম ফুচকাওয়ালা নয়, বরং কর্পোরেট মজদুর বনাম উদ্যোগপতির লড়াই।”

ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় আলোচনা। ওই বিক্রেতার উপার্জন এবং নিজস্ব ব্যবসা ও কর্পোরেট চাকরির মধ্যে তুলনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেন নেটিজেনরা।

একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “পানি + পুরি + লাভের ক্ষমতাকে কখনও অবহেলা করবেন না।”

অন্য একজন লেখেন, “এটা শুধু লাভ করার বিষয় নয়, এর সঙ্গে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যতের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। তিনি যখন ইচ্ছা দোকান খুলতে পারেন এবং বাকি সময় নিজের অন্যান্য কাজে মন দিতে পারেন।”

আরও একজন লেখেন, “এটা শুধু লাভ করার বিষয় নয়, এর সঙ্গে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যতের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। তিনি যখন ইচ্ছা দোকান খুলতে পারেন এবং বাকি সময় নিজের অন্যান্য কাজে মন দিতে পারেন। তাছাড়া, ভবিষ্যতে এই ব্যবসা তাঁর ছেলের হাতেও তুলে দিতে পারবেন।”



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed