কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল ওই ব্যক্তির?
এই ঘটনাটি জ্যাক অ্যালেন নামে এক প্রাক্তন নার্সের সঙ্গে ঘটেছিল। জীবনের ৩৭ বছর তিনি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কাজে কাটিয়েছেন। অবসর নেওয়ার পর মেক্সিকোর একটি সুন্দর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের খামারে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জ্যাক। কিন্তু ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সেই দিনটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হয়ে ওঠে।
জ্যাক তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার এবং দু’জন কর্মচারীর সঙ্গে খামারে কাজ করছিলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি বড় ছুরি। সেই সময় অসাবধানতাবশত তাঁর ছুরির কোপ গিয়ে পড়ে একটি ঝুলে থাকা গাছের ডালে।
সেই ডালটি কোনও সাধারণ ডাল ছিল না। বরং তার অন্য প্রান্তে লুকিয়ে ছিল বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মক পতঙ্গ, ভয়ঙ্কর বোলতার একটি বিশাল চাক। ডালটি নড়তেই হাজার হাজার বিষাক্ত বোলতা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চাক থেকে বেরিয়ে আসে। জ্যাক সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি বিষাক্ত বোলতা তাঁর কাঁধে হুল ফুটিয়ে দেয়।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জ্যাকের চোখ দু’টি উল্টে যায়। তাঁর গোটা শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয় এবং তিনি সম্পূর্ণ নিথর হয়ে পড়েন। প্রায় দু’মিনিট ধরে এই পরিস্থিতি চলার পর তাঁর সঙ্গীরা বুঝতে পারেন, জ্যাক আর এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই।
মৃত্যুর পর অন্য জগতে কী কী দেখেছিলেন?
কিন্তু অন্যদিকে, জ্যাকের জন্য যেন সম্পূর্ণ আলাদা এক জগতের দরজা খুলে গিয়েছিল। জ্যাক জানিয়েছেন, “সেদিন শুকনো মাটির উপর চোখ বন্ধ করতেই মুহূর্তের মধ্যে আমি অন্য এক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। সেই জায়গা কেমন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন। সেটা কোনও স্বপ্ন ছিল না, বরং বাস্তবের থেকেও অনেক বেশি জীবন্ত এবং গভীর এক অনুভূতি ছিল। চারদিকে ছিল মুগ্ধ করে দেওয়ার মতো নানা রং, ফুটে ছিল অসংখ্য সুন্দর ফুল এবং বিরাজ করছিল এক অসীম প্রশান্তি। হঠাৎ আমার মনে হয়েছিল, এটাই যেন আমার আসল বাড়ি।”
সেখানে তিনি একইসঙ্গে সময় এবং মহাকাশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে গিয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন মহাবিশ্বের এমন কোনও এক প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছেন, যেখানে কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। সেই উজ্জ্বল ও রঙে ভরা জগতে জ্যাক তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পান। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই জগতে তাঁর স্ত্রীকে অত্যন্ত তরুণী, প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং সুস্থ-সবল দেখাচ্ছিল। অথচ বাস্তব জীবনে তাঁর স্ত্রীর পায়ে গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছিল।
জ্যাকের কথায়, সেই মুহূর্তে ওই জগতে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে যে অপরিসীম ভালোবাসা অনুভব করেছিলেন, তা আগে কখনও অনুভব করেননি। দু’জনে সেই বিশাল সুন্দর বাগানে হাঁটতে হাঁটতে ফুল সংগ্রহ করেছিলেন।
‘তোমাকে এখনই ফিরে যেতে হবে’… আর আচমকাই ভেঙে গেল সেই জাদুময় মুহূর্ত:
জ্যাক যখন সেই অসীম আবেগঘন আনন্দে ডুবে ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর স্ত্রী বিষণ্ণ হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘তোমাকে এখনই ফিরে যেতে হবে।’
জ্যাক জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে তিনি এতটাই আনন্দিত ছিলেন যে তাঁর স্ত্রী যা বলতেন, তিনি হাসিমুখেই মেনে নিতেন। কিন্তু ঠিক তখনই… আচমকা একটা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন তিনি। জ্যাক বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, যেন কোনও ভ্যাকুয়ামের সাহায্যে কেউ আমাকে প্রবল গতিতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আর… ধপ করে! আমার চোখ খুলে গেল। দেখলাম, আমি মাটির উপর শুয়ে রয়েছি এবং আমার বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করছেন।”
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও, পরলোকের সেই শান্তির গভীর প্রভাব পড়েছিল জ্যাকের মন ও মস্তিষ্কে। তিনি বন্ধুদের বলেছিলেন, ‘সারা জীবনে কখনও এতটা ভালো অনুভব করিনি, যতটা এই মুহূর্তে করছি।’
‘হয়তো এমন কিছু দেখে ফেলেছি, যা মানুষের দেখা উচিত নয়’:
এই দুর্ঘটনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জ্যাকের বাস্তব জীবনে শুরু হয় একের পর এক ঝড়। কিছুদিনের মধ্যেই এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় তাঁর মেক্সিকোর সেই স্বপ্নের খামারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। তাঁর ব্যবসা ভেঙে পড়ে, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং শেষ পর্যন্ত টেক্সাসে থাকা নিজের সম্পত্তিও বিক্রি করে দিতে হয় তাঁকে। একের পর এক এই ধাক্কা তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেয়।
কিন্তু এত দুঃখ এবং লড়াইয়ের মধ্যেও জ্যাকের দৃষ্টিভঙ্গি চিরতরে বদলে গিয়েছে। তিনি বলেন, “সেখানে আমি এমন অনেক কিছু দেখেছি, যা হয়তো আমাকে কিংবা আমাদের মানুষদের দেখার অনুমতি নেই। হয়তো পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে আমাদের সেই রহস্য দেখা উচিত নয়। কারণ, এটাই আমাদের পরীক্ষার জায়গা। আমরা এখানে রয়েছি, কারণ আমরা নিজেরাই এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বর্তমানে পরলোকের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জ্যাক তাঁর জীবনের বাকি সময় আবারও মানুষের সেবায় এবং অন্যের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার কাজে নিয়োজিত করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই পৃথিবীতে তাঁর ফিরে আসা নিছক কোনও কাকতালীয় ঘটনা ছিল না, বরং এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় কোনও উদ্দেশ্য।
(Disclaimer: প্রতিবেদনের লেখা তথ্য News18 বাংলা যাচাই করেনি ৷ এটি একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া খবর৷)
