দিল্লির দূষণ নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?Image Credit: TV9 Bharatvarsh

নয়াদিল্লি: বাড়ছে দিল্লির বায়দূষণ। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আর দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বায়ুদূষণ নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আদালত-বান্ধব (অ্যামিকাস কিউরি) এক বক্ষ বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করলেন। যেখানে বলা হয়েছে, দিল্লিতে শিশুদের ফুসফুসও আর গোলাপি নেই। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য জানিয়ে দিল, কোনও ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে তারা আগ্রহী নয়।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে মামলার শুনানি ছিল। বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলায় দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ সীমিত হওয়া উচিত। অন্যথায় মানুষ আইন অমান্য করতে প্ররোচিত হবে। এর পরিবর্তে, দীপাবলির অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দূষণ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টকে স্যর গঙ্গারাম হাসপাতালের একজন বক্ষবিশেষজ্ঞের রিপোর্টের কথা জানান আদালত-বান্ধব সিনিয়র অ্যাডভোকেট অপরাজিতা সিং। যেখানে বলা হয়েছে, দিল্লিতে শিশুদের ফুসফুসও আর গোলাপি নেই। তবে আদালত জানায়, তারা এই ধরনের “ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা” নির্ভর মতামত নিয়ে আগ্রহী নয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, কোনও গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত কোনও গবেষণাপত্র পেশ না করা পর্যন্ত তারা বিশেষজ্ঞ দল এবং GRAP (গ্রাডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান)-র মতামতের উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আমাদের বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে CAQM (কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট) স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সহ সমস্ত বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনা করে দেখে… কোনও ছোট শিশুর ফুসফুস মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সক্ষম কি না, সে বিষয়ে আমাদের কোনও (জ্ঞান) নেই। গ্র্যাপ যা বলছে, কোনও পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র দিয়ে তা খণ্ডন করতে না পারলে আমরা এই ধরনের আবেগপূর্ণ যুক্তির মধ্যে যাব না।”

শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, “আমরা আশা করি আপনারা সবাই দিল্লির আবহাওয়া উপভোগ করছেন।” এর জবাবে আদালত-বান্ধব (অ্যামিকাস কিউরি) সিনিয়র অ্যাডভোকেট অপরাজিতা সিং জানান, বাতাসের গুণমান ইতিমধ্যেই ‘গুরুতর’ পর্যায়ে চলে গিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শহরের বায়ুর মান বর্তমানে ক্যাটেগরি ৩-এর কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। অথচ এখনও ছোট ছোট শিশুরা বাইরে খেলাধুলোর প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। তিনি স্কুলগুলো হাইব্রিড মোডে (অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে) চালানোর বিষয়ে আদালতের আগের পরামর্শের কথা মনে করিয়ে দেন এবং উল্লেখ করেন যে গ্র্যাপ (GRAP) কেবল গড় হিসাব নেয় (যার ফলে দিল্লির কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দূষণ হয়তো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে, কিন্তু গ্র্যাপ পুরো দিল্লির জন্য তা কেবল ‘খুব খারাপ’ হিসেবে দেখায়)। বিচারপতি বাগচী শিশুদের স্কুলে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতি তীব্র অনীহা প্রকাশ করেন।

নবজাতক শিশুর ফুসফুস হালকা গোলাপি রঙের হয়-

প্রসঙ্গত, নবজাতক শিশুর ফুসফুস প্রাকৃতিকভাবেই হালকা গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। জন্মের ঠিক পরে শিশুর ফুসফুস সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং ধূমপান বা পরিবেশের কোনও বিষাক্ত ধূলিকণার সংস্পর্শে আসে না। মানুষ যত বড় হতে থাকে এবং প্রতিনিয়ত বাতাসের ধূলিকণা, কার্বন, ধোঁয়া ও নানাবিধ দূষণ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে, ফুসফুসের রং ধীরে ধীরে গোলাপি থেকে কালচে বা ধূসর রঙের হতে শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *