নয়াদিল্লি: টাটা গোষ্ঠীর অন্দরে টানাপোড়েন অব্যাহত। সেই আবহে এবার টাটা ট্রাস্টস বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ালেন দারিয়াস খাম্বাটা। শেয়ার বাজারে টাটা সন্স প্রস্তাবিত পাবলিক লিস্টিং এবং বোর্ডের কার্যপদ্ধতির সমালোচনা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বর্তমানে যা চলছে, তা টাটা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতাদের নীতির পরিপন্থী। (TATA Group Crisis)

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী, অভিজ্ঞ আইনজীবী দারিয়াস টাটা ট্রাস্টসের অন্যতম ট্রাস্টি। ৯ নভেম্বর স্যর দোরাবজী টাটা ট্রাস্টে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ। শ্রী রতন টাটা ট্রাস্টে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ চলতি মাসের শেষে। সেই নিয়ে টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং চিফ এগজিকিউটিভ সিদ্ধার্থ শর্মাকে চিঠি দিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। পুনর্নিয়োগ চান না বলে জানিয়েছেন। (Darius Khambata)

চিঠিতে দারিয়াস জানিয়েছেন, রতন টাটার অনুরোধে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে পদগ্রহণ করেছিলেন তিনি। টাটাদের ব্যবসার যে মডেল, তাতে ব্যবসা এবং জনকল্যাণমূলক কাজ পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। সেই কাঠামো ভেঙে ফেলার অর্থ সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দুর্বল করে তোলা। তাঁর বক্তব্য, “টাটার মডেল মহাত্মা গাঁধীর অছি ব্যবস্থার জীবন্ত প্রতিফলন। শিল্প এবং জনকল্যাণমূলক কাজের সমন্বিত রূপ। এটি এমন জাতীয় সম্পদ, যেখানে একটিকে ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।”

আরও পড়ুন: ‘তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ বাঁকা, আমাদের রামচন্দ্র সিধে’, বললেন বাগেশ্বর বাবা, ভিডিও সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক

গত ১৭ সেপ্টেম্বর টাটা সন্সের তরফে ৪-১ ভোটে এন চন্দ্রশেখরনের মেয়াদবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি, শেয়ার বাজারে সংস্থার নথিভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেও সিদ্ধান্ত হয় সেখানে। যদিও দু’টিতেই আপত্তি জানিয়েছিলেন নোয়েল টাটা। সেই নিয়ে টানাপোড়েন চরমে উঠেছে। টাটার অন্দরের মতবিরোধ নিয়ে জল গড়িয়েছে আদালতেও। 

ওই দিনের ঘটনাবলীর তীব্র সমালোচনা করেছেন দারিয়াসও। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলী দুঃখজনক। কুখ্যাত হয়ে থাকবে দিনটি। টাটা সন্সের সুনাম কলঙ্কিত হয়েছে। ভারতের কর্পোরেট জগতে টাটার যে ভাবমূর্তি, ক্ষুণ্ণ হয়েছে তাও। যত রকম কৌশলই অবলম্বন করা হোক না কেন, যত রকমের প্রচারই হোক না কেন, ওই ঘটনাকে আড়াল করা যাবে না’।

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীদের হাতেই ‘আক্রান্ত’ ডেবরার বিজেপি বিধায়ক, তোলাবাজির অভিযোগে সংঘাত

শেয়ার বাজারে নাম নথিভুক্ত না করে, প্রাইভেট সংস্থা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে আবেদন জানিয়েছিল টাটা, তা খারিজ করে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। দারিয়াসের দাবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে টাটা সন্সের আলোচনা তেমন অর্থবহ ছিল না। তাঁর বক্তব্য, ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনা সফল হওয়া তো দূর, অর্থবহ আলোচনা হয়নি বলে মনে হয় আমার’।

টাটার অন্দরে যে টানাপোড়েন চলছে, তাতে বিভাজন স্পষ্ট। নোয়েল টাটা, তাঁর ছেলে বাজারে নথিভুক্তিকরণ থেকে বোর্ডের একাধিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশা ফুটে উঠেছে দারিয়াসের চিঠিতেও। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পুঁজি সংগ্রহ থেকে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও, একটি সহজ সত্য এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এখানে, যা হল, লোভ পরিত্যাগ করে স্বল্পমেয়াদি লাভের তাড়না ছিল না বলেই টাটার মডেল সফল হয়। শুধুমাত্র মুনাফার কথা ভাবলে এটা সম্ভব হতো না।

টাটার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন। পরিকল্পিত ভাবে টাটাকে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কেন্দ্র যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যাতে প্রকাশ্যে চলে না আসে, সেই নিয়ে সতর্ক করেন তিনি।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *