Hyderabad Techie Dies: পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, হায়দরাবাদে ম্য়ারাথনে অংশ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৩৬ বছরের যুবক
তেলেঙ্গানা: বিজয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হল। ম্য়ারাথনে অংশ নিয়েছিলেন ৩৬ বছরের এই আইটি স্পেশালিস্ট কোম্বিনেনি গোপী। কিন্তু এটাই যে শেষ ম্য়ারাথন হবে তাঁর, কে জানত। রবিবার সকালে গাচিবোলি স্টেডিয়ামে ফুল ম্যারাথন শেষ করার পরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গোপী। পেশায় তিনি একজন IBM সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। নিজের ম্য়ারাথন শেষ করার পরও যেভাবে প্রাণ হারাতে হল, এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আয়োজকরাও ঘটনার এই আকস্মিকতায় স্তম্ভিত।
সাইবারাবাদের মানিকোন্ডার আলকাপুর কলোনির বাসিন্দা গোপী হায়দরাবাদ হাই-টেক ফুল ম্যারাথনের অষ্টম সংস্করণে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সফলভাবে ৪২.২ কিলোমিটারের এই ম্য়ারাথন সম্পন্ন করেন। ফিনিশার্স মেডেল গ্রহণও করেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই, জলখাবারের স্থানের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান। ইভেন্টের আয়োজকরা সঙ্গে সঙ্গে এসে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে CPR দেন ও নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান যেই যুবক। গাচিবোলি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।’ মৃত্যুর কারণ হিসেবে এটিকেই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, এই খবর গোপীর পরিবারের কাছে পৌঁছতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সবাই। পরিবার ও বন্ধুদের মতে, গোপী কেবল একজন সফটওয়্যার পেশাজীবীই ছিলেন না, একজন ফিটনেস অনুরাগীও ছিলেন। গোপী তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলার রভিনুথালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে পরিবার নিয়ে হায়দরাবাদে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুকালে গোপী তাঁর স্ত্রী ও ৩ বছর বয়সি এক সন্তানকে রেখে গেছেন। গোপীর স্ত্রী-র সঙ্গে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
গোপীর কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না কি না তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। অনেক সময় দৌড়বিদের অজান্তেই হৃদযন্ত্রে বা ধমনিতে সুপ্ত কোনও সমস্যা থাকে, যা অতিরিক্ত চাপের কারণে অচল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ দৌড়ালে শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে। এই ম্য়ারাথনে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল চিনে। উত্তর-পশ্চিম চিনের পাহাড়ি এলাকায় ১০০ কিলোমিটারের আল্ট্রা-ম্যারাথনে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঝড়ের মুখে পড়ে ২১ জন দৌড়বিদ হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।