ইংরেজিই তৈরি করেছে আলাদা পরিচয়:

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় অবস্থিত কালিয়াচক ইংরেজি শিক্ষক এবং টিউশন সেন্টারগুলির জন্য পরিচিত। এখানে ইংরেজি শুধু স্কুলের বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু পরিবারের কাছে এটি পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। গ্রামের অলিগলিতে ছোট ছোট টিউশন সেন্টার এবং হোম ক্লাস দেখতে পাওয়া যায়। কোথাও শিশুদের Spoken English শিখতে দেখা যায়, আবার কোথাও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং IELTS-এর মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হয়। কালিয়াচকের বিশেষত্ব হল, এখানে ইংরেজি শেখানোর কাজ বহু পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। এক প্রজন্ম ভাষাটি শিখেছে, তা পড়ানো শুরু করেছে এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও একই দক্ষতা শিখিয়েছে। এই কারণেই এখানে বহু মানুষ নিজেদের বাড়ি থেকেই টিউশন সেন্টার চালান। কিছু শিক্ষক স্থানীয় পড়ুয়াদের পড়ান, আবার কেউ কেউ অনলাইন মাধ্যমে দেশ-বিদেশের পড়ুয়াদের ইংরেজি শেখান।

গ্রাম থেকে দিল্লি-মুম্বই এবং বিদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে:

কালিয়াচকের ইংরেজি শিক্ষকদের পরিধি শুধু আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। এখান থেকে বহু শিক্ষক দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরেও কাজ করতে যান। কেউ কেউ বিদেশেও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত কাজ করেন, আবার অনেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি পড়ুয়াদের পড়ান। অর্থাৎ, যে গ্রামের অলিগলিতে একসময় ছোট ছোট পড়াশোনার ক্লাস শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই বেরিয়ে কিছু মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি বিদেশেও নিজেদের কেরিয়ার তৈরি করেছেন।

শিশুরা বাড়িতেই পায় ইংরেজির পরিবেশ:

কালিয়াচকে ইংরেজি শেখার পরিবেশ শুধু টিউশন সেন্টারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু অভিভাবক সন্তানদের বাড়িতেও ইংরেজিতে কথা বলার জন্য উৎসাহিত করেন। স্থানীয় স্তরে শিশুদের জন্য বিতর্ক এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যকলাপও আয়োজন করা হয়। এর ফলে শিশুরা শুধু পরীক্ষা পাশ করার জন্য নয়, বরং কথোপকথনের একটি মাধ্যম হিসেবেও ইংরেজি শেখার সুযোগ পায়।

কলেজ এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটও গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

কালিয়াচকে কলেজ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যেখানে আশপাশের এলাকা থেকে পড়ুয়ারা পড়াশোনা করতে আসে। শিক্ষার এই পরিবেশ নতুন শিক্ষক তৈরি করতেও সাহায্য করে।

অনেক সময় এখান থেকে যে পড়ুয়ারা পড়াশোনা করেন, তাঁরাই পরবর্তীতে শিক্ষক হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের পড়ুয়াদের পড়ান। এইভাবে শেখা এবং শেখানোর ধারাবাহিকতা ক্রমাগত এগিয়ে চলে।

শুধু ইংরেজি নয়, কৃষিকাজ ও ব্যবসাও পরিচয়ের অংশ:

যদিও ইংরেজি শিক্ষক এবং টিউশন সেন্টারের কারণে কালিয়াচক নিয়ে আলোচনা হয়, তবে গ্রামের অর্থনীতি শুধু এর উপর নির্ভরশীল নয়। এখানে কৃষিকাজ এবং স্থানীয় ব্যবসাও মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মালদা অঞ্চল আম এবং লিচুর জন্যও পরিচিত। এছাড়াও রেশম এবং পাটের সঙ্গে যুক্ত ছোট ব্যবসাও বহু পরিবারের জীবিকার অংশ।

অর্থাৎ, কালিয়াচকের গল্প শুধু ইংরেজিতে কথা বলা মানুষদের গল্প নয়। এটি এমন একটি গ্রামের গল্প, যেখানে একটি দক্ষতা ধীরে ধীরে বহু পরিবারের জন্য পড়াশোনা, কর্মসংস্থান এবং এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠেছে।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *