১২ বছর কাজ করার পর তাঁর স্বামী ওরাকলের চাকরি হারিয়েছেন—এই ঘটনা নিয়ে এক মহিলার আবেগঘন LinkedIn-এর পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টে তিনি কাজের জন্য তাঁর স্বামীর করা ত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন। স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেও লগ ইন করা থেকে শুরু করে উৎসব, সপ্তাহান্তে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও কাজ করে যাওয়া—গত ১২ বছর ধরে নিজের চাকরির প্রতি তিনি কতটা নিবেদিত ছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ওই মহিলা।
“আজ আমার স্বামী সৌরভ চাকরি হারিয়েছে,” পোস্টে লিখেছেন পূজা সাহু। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সৌরভ ওরাকলে ১২ বছর কাজ করেছেন এবং চাকরি হারানোর আগে তাঁর সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক কথোপকথনও করা হয়নি। তিনি তাঁর কাজের সিস্টেমে লগ ইন করতে না পারার পর বুঝতে পারেন যে তাঁর চাকরি শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়।
পূজার কাছে আচমকা চাকরি হারানোর ঘটনাটি বিশেষভাবে বেদনাদায়ক ছিল, কারণ তিনি দেখেছেন, সৌরভ তাঁর জীবনের কতটা সময় নিজের কর্মজীবনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা স্মরণ করেছেন, যখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মুহূর্তেও সৌরভ কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। এমনই একটি ঘটনা ঘটে যখন পলিপ (Polyps) অস্ত্রোপচারের জন্য পূজাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থেকেও সৌরভ হাসপাতাল থেকেই কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। নিউ মেক্সিকোতে ছুটিতে গিয়েও তিনি নাকি ফোনে কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, যখন পূজা গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
পূজার কথায়, হোলি, দীপাবলি এবং রাখির মতো উৎসবের পাশাপাশি জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এবং সপ্তাহান্তেও তাঁর কাজের দায়বদ্ধতা অব্যাহত থাকত। তিনি আরও জানান, দম্পতি একটি কুকুর দত্তক নেওয়ার পরও সৌরভ গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতেন এবং একইসঙ্গে পোষ্যটির দেখাশোনা করতেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি রাত ৩টে পর্যন্ত কাজ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন।
“তিনি সবসময় মুখে হাসি নিয়ে থাকতেন এবং তাঁর আশপাশের সবাইকে সাহায্য করার জন্য পাশে থাকতেন,” লিখেছেন পূজা। তিনি আরও জানান, কর্মক্ষেত্রে যে চাপের মুখোমুখি হতে হতো, তা নিয়ে সৌরভকে অভিযোগ করতে তিনি বা তাঁদের বন্ধুরা কেউই কখনও দেখেননি।
সৌরভের প্রায় দুই দশকের আইটি শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কর্মজীবনে তিনি ‘বেস্ট এমপ্লয়ি অ্যাওয়ার্ড’-ও পেয়েছিলেন। তাঁর জন্য নতুন কাজের সুযোগ খুঁজতে পূজা তাঁর পেশাগত নেটওয়ার্কের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তাঁকে উপযুক্ত পদে রেফার করা হয়। তিনি সৌরভকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি দলের একজন শক্তিশালী সদস্য হতে পারেন এবং “আজীবনের বন্ধু” হয়ে উঠতে পারেন।
এই পোস্টটি লিঙ্কডইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বেশ কয়েকজন প্রশ্ন তোলেন, কর্পোরেট চাকরির জন্য কর্মীদের কি নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দেওয়া উচিত?
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “দুর্ভাগ্যজনক… গত কয়েক বছরে সংস্থাগুলি ব্যালান্স শিট এবং বহিরাগত অংশীদারদের নিয়ে আরও বেশি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, অথচ ভুলে যাচ্ছে যে মানুষ/কর্মীরাই এর মূল চালিকাশক্তি। কোনও পদ বা ব্যবসার প্রতি আপনি যতই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন না কেন, চাকরির ক্ষেত্রে আপনি কেবল এমন একটি কাগজ, যাকে যে কোনও সময় ছিঁড়ে ফেলা যেতে পারে। এই পর্যায় থেকে সৌরভ যেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেই কামনা করি। এখানে শিক্ষণীয় বিষয়: ব্যালান্স শিটের জন্য আমাদের রক্ত-ঘাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
অন্য এক ইউজার কর্পোরেট চাকরি সম্পর্কে সরাসরি মূল্যায়ন করে লেখেন, “এখানে এমন একটি কঠিন সত্য রয়েছে, যা কেউ আপনাকে বলবে না, কিন্তু আমি বলব। আপনি কতটা কঠোর পরিশ্রম করেন, তা কোনও ব্যাপার নয়। যখন আপনার পদটির আর প্রয়োজন থাকে না, তখন আপনারও আর প্রয়োজন থাকে না। এটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে। আপনি যা করতে পারেন, তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো হল সেই সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকা। আপনি যদি কীভাবে করতে হয় তা বুঝতে পারেন, তাহলে নিজের জন্য কাজ করুন। আর অন্য কারও সমাধান করার মতো সমস্যা হয়ে উঠবেন না। শুভকামনা। আপনার জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল।”
