এ বছর আম্বানি পরিবারের অ্যান্টিলিয়ায় গণেশ উৎসবের অনুষ্ঠানে নীতা আম্বানি স্বদেশের উজ্জ্বল রঙের একটি সিল্ক শাড়ি পরেছিলেন। কিন্তু সবার নজর সোজা চলে গিয়েছিল অন্য একটি জিনিসটির দিকে ৷ তা হল এমন একটি হার, যা গোটা কাঁধ জুড়ে ছড়িয়ে ছিল এবং আক্ষরিক অর্থেই গলায় পরা একটি ছোটখাটো প্রদর্শনীর মতো দেখাচ্ছিল।

এই গয়নাটির নাম ‘আম্রপালি ভারতম’ (Amrapali Bharatam)। এটি আসলে শুধুমাত্র একটি হার নয়, বরং একাধিক গয়নাকে একসঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা একটি হার। এর উপরের অংশে রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী কেরলীয় হার, যা গোটা নকশাটিকে চমকে দিয়েছে। আর সেই হারের চারপাশে রয়েছে পুরনো দক্ষিণ ভারতীয় নথ, ঝুমর, কানের দুল, বিল্লা এবং চাঁদবালি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, এই সমস্ত গয়না একসময় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, এমনকী এগুলির সময়কালও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর এখন সেগুলিই একই ফ্রেমে একসঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের মধ্যবর্তী ফাঁকগুলি ভরাট করেছে মুক্তো ও রঙিন রত্নপাথর। আর একটু খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, প্রতিটি অংশের নিজস্ব সৌন্দর্য ও মূল্য রয়েছে।

অম্রপালি জুয়েলসের CEO এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর তরঙ্গ অরোরা জানিয়েছেন, এই ধরনের হার আসলে আগে কাগজে এঁকে পরিকল্পনা করা যায় না। গয়নার অংশগুলিকে হাতে সাজিয়ে রাখতে হয়, তারপর সেগুলিকে সরিয়ে, ভারসাম্য বজায় রেখে একে অপরের সঙ্গে মানানসই করে তুলতে হয়—যতক্ষণ না তারা একসঙ্গে বসার মতো অবস্থায় আসে। এমনকী, পিছনের মুক্তোর মালাগুলিও একইভাবে তৈরি করা হয়েছে, আগে থেকে পরিকল্পনা করে নয়।

আর এমন একটি মাস্টারপিস এক সপ্তাহান্তে তৈরি করা সম্ভব নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, হারটিতে দেখা যাওয়া অ্যান্টিক ও ভিনটেজ গয়নার অংশগুলি সংগ্রহ করতেই তিন বছর সময় লেগেছে। এরপর ১৪ জন দক্ষ কারিগর চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে কয়েক মাস সময় দিয়েছেন। যে টুকরোগুলি কখনও একসঙ্গে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়নি, সেগুলিকেই একে একে জুড়ে তাঁরা এমন একটি গয়না তৈরি করেছেন, যেখানে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি অংশই একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে।

এমন একটি মাস্টারপিস এক উইকেন্ডে তৈরি করা সম্ভব নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, হারটিতে দেখা যাওয়া অ্যান্টিক ও ভিনটেজ গয়নার অংশগুলি সংগ্রহ করতেই তিন বছর সময় লেগেছে।

এই নেকলেসটির পিছনের গল্প এর উজ্জ্বলতার চেয়েও অনেক বেশি আকর্ষণীয় । ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিন্টেজ ও দুর্লভ গয়নার উপাদান সংগ্রহ করতে ব্র্যান্ডটি প্রায় তিন বছর সময় ব্যয় করেছে । এরপর, ১৪ জন দক্ষ কারিগর প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ করে এই ভিন্ন ভিন্ন অংশগুলিকে একত্রিত করে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন ।

আসলে ‘আম্রপালি ভারতম’-এর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, একবারে তৈরি করা কোনও সাধারণ হারের মতো এতে নিখুঁত প্রতিসাম্য নেই। বরং এর মধ্যে রয়েছে কিছুটা অস্থির, প্রাণবন্ত এক বৈশিষ্ট্য—যেন কোনও প্রদর্শনী শোকেসে রাখা প্রতিটি গয়না আপনার নজর কাড়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। আর আপনি বারবার তাকিয়ে থাকেন, কারণ প্রতিবারই চোখে পড়ে আরও একটি নতুন খুঁটিনাটি, যা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *