ওয়াশিংটন: আমেরিকার মসনদ থেকে বিদায় নিয়েছেন একদশক আগে। সক্রিয় রাজনীতিতে আর দেখাও যায় না সেভাবে। কিন্তু এবারের মিডটার্মের নির্বাচনে একেবারে জামার গিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের হয়ে। আবারও আগের ভঙ্গিতে তাঁকে পেয়েছিলেন সকলে। আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচন বারাক ওবামার সেই খাটনির সুফলও ডেমোক্র্য়াটরা বেশ খানিকটা পেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। (Barack Obama)

মিডটার্ম নির্বাচনের ঠিক আগে আগে এবারে ডেমোক্র্যাটদের হয়ে প্রচারে নামেন ওবামা। ওহায়ো, মিশিগান, জর্জিয়ায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করেন তিনি। নির্বাচনী খরচ তুলতেও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। এমনকি মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী আব্দুল আল সায়েদের হয়েও প্রচারে যান ওবামা। অথচ ওবামা সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের সমালোচক বলেই পরিচিত আব্দুল। (US Midterm Election Results)

আব্দুলের সঙ্গে মতবিরোধের কথা অস্বীকারও করেননি ওবামা। বরং ডেট্রয়েটের প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলাম, আমার সরকার যেসব কাজ করতে চেয়েছিল, তার কিছু কিছু বিষয়ে আপত্তি ছিল আব্দুলের। আমার সব পদক্ষেপের সঙ্গে কে-ই বা একমত হন? মিশেলও (ওবামার স্ত্রী) একই গোত্রে পড়ে। দিনে অন্তত পাঁচবার আমাকে বলে ‘কী বোকা তুমি? এটা কেন করলে?’।” ওবামার সেই মন্তব্যে হাসির রোল ওঠে। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ওবামার সেই মন্তব্যকে বিশেষ গুরত্ব দিয়ে দেখেছিলেন। তাঁদের মত ছিল, নিজের স্ত্রীর উদাহরণ টেনে আদি এবং নব্য ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আসলে সেতুবন্ধন গড়েন ওবামা। ডেমোক্র্যাটস শিবিরে থেকেও যাঁরা দলের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাইছিলেন না, তাঁদেরও আবেগের সুতোয় বেঁধে দেন বিচক্ষণ ওবামা। 

শুধু তাই নয়, এবারে প্রচারে গিয়ে ট্রাম্পকে ধারাল আক্রমণ করতে দেখা যায় ওবামাকে। আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ, বিদ্রুপও করতে ছাড়েননি তিনি। ওবামাকে বলতে শোনা যায়, “এই নির্বাচনই আমাদের শেষ সুযোগ, যার মাধ্যমে ওঁর মূর্খামিকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বশেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।” ওহায়োতে ওবামা বলেন, “এখন হোয়াইট হাউসের দিকে তাকালে মনে হয় সাদ্দাম হুসেন যেন চিজ়কেক ফ্যাক্টরি খুলে বসে রয়েছেন।”

ডেমোক্র্যাটদের তরফে যে সময় ওবামাকে প্রচারে নামানো হয়, তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারের একেবারে শেষ চরণে ওবামাকে মাঠে নামায় তারা। এর ফলে ডেমোক্র্যাটস শিবিরের নতুন প্রজন্মের প্রার্থীরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার সুযোগ পান যথেষ্ট। একেবারে শেষ লগ্নে নিজের তারকাসুলভ, খ্যাতির জোরাল আলো নিয়ে হাজির হন ওবামা। উল্টো দিকে, ট্রাম্পের জনসভা ঘিরে ক্ষোভ-অসন্তোষ সামনে আসছিল চোখে পড়ার মতো। 

ওবামার আমলে হোয়াইট হাউসে বিবৃতি লেখার দায়িত্বে ছিলেন ডেভিড লিট। ডেমোক্র্যাটদের হয়ে ওবামার এই প্রচারপর্বকে ব্যাখ্য়া করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ওবামা নতুন প্রজন্মের নেতাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি সবকিছুতে জড়িয়ে পড়ার কোনও চেষ্টা করেননি। এখনও আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ওবামার। ভোটারদের একাই ভোটকেন্দ্রে টেনে আনার ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব বেশ। আমেরিকার রাজনীতিতে আর কোনও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের এই কৃতিত্ব নেই। মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন তিনি। তাঁর সাধারণ মন্তব্যও বিচলিত করে তোলে ট্রাম্পকে। কিন্তু ওবামা একটিবারও সংযম হারাননি।”

বুধবার মিডটার্ম নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যখন বিচার-বিশ্লেষণ চলছে, আমেরিকার কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ যখন একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছে সেই সময়ও বিবৃতিতে আবেগঘন বার্তা দেন ওবামা। তিনি লেখেন, ‘মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন-মানুষে মানুষে বিভাজন ঘটানো নেতা চান না তাঁরা। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন, এমন নেতা চান। এমন নেতা চান, যিনি সমস্যার সমাধান বের করতে পারেন…বর্তমান সরকারের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হতে এখনও দু’বছর বাকি। এখনই কঠোর পরিশ্রম শুরু করতে হবে আমাদের। যেখানে যেখানে ক্ষমতা আছে, সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে। দেখতে হবে, আরও ক্ষতি যেন না হয়ে যায়। ভবিষ্যতের ভিত্তিস্থাপন করতে হবে এখন থেকেই’। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে ডেমোক্র্যাটস শিবিরের তাবড় নেতা, সকলেই একবাক্যে মানছেন যে, এবারের মিডটার্মে তাঁদের পক্ষে ‘X ফ্যাক্টর’ হয়ে ওঠেন ওবামা।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *