নয়াদিল্লি : বুধবার কেন্দ্র ও ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্তের জন্য আইনি পদক্ষেপ থেকে যে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে (“Blanket Immunity”) তা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নোটিস জারি করা হয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ, আইনজীবী ও সমাজকর্মী অরুণ কুমার আগরওয়ালের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের কাছ থেকে জবাব তলব করেছে। এই আবেদনে ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশনস অফ সার্ভিস অ্যান্ড টার্ম অফ অফিস) অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর ১৬ নম্বর ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
এনজিও ‘লোক প্রহরী’-র দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জানুয়ারি মাসে এনজিওটির আবেদন শোনার পর আদালত নোটিস জারি করেছিল, তবে এই বিধানটির উপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে।
এই বিধানে বলা হয়েছে যে, “বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনও আইনে যা-ই থাকুক না কেন, কোনও ব্যক্তি- যিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কর্মরত আছেন বা ছিলেন, তাঁর দাফতরিক দায়িত্ব বা কার্যাবলি পালনকালে হওয়া কোনও কাজ, গৃহীত কোনও পদক্ষেপ বা উচ্চারিত কোনও বক্তব্যের বিষয়ে কোনও আদালত কোনও দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যধারা গ্রহণ বা অব্যাহত রাখতে পারবে না।” নিজের আবেদনে আগরওয়াল বলেছেন যে, অন্যান্য সাংবিধানিক পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে যে সুরক্ষা প্রদান করা হয়, তা কেবল সরল বিশ্বাসে করা বা করার অভিপ্রায়ে সম্পন্ন কাজের জন্যই প্রযোজ্য ; অথচ সিইসি (CEC) এবং ইসি (EC)-দের কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই একচ্ছত্র দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা অসাংবিধানিক, অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সেই কারণে বাতিলযোগ্য।
এতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের দায়মুক্তি সিইসি (CEC) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের (ECs) কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যে কোনও দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রতিকারের পথ বন্ধ করে দেয়। “একজন ভোটার, যার নাম ভোটার তালিকা থেকে ভুলবশত বাদ দেওয়া হয়েছে; একজন প্রার্থী, যিনি কোনও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; এবং কমিশনের কার্যক্রমে দুর্নীতির শিকার যে কোনও নাগরিক-এদের সবার জন্যই তখন কোনও প্রতিকারের সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না।”
Cyclone Murasu | ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব, আজ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি
