Last Updated:

তাঁর বাবা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করছেন। আর মাত্র কয়েক বছর পর তাঁর অবসর নেওয়ার কথা। তাই বাবার অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়েও ভাবছেন ২৯ বছরের ওই যুবক।

কর্পোরেট চাকরি খুইয়ে বাসন মাজার কাজ নিলেন যুবক! (Representative Image)
কর্পোরেট চাকরি খুইয়ে বাসন মাজার কাজ নিলেন যুবক! (Representative Image)

কর্পোরেট চাকরি হারানোর পর অনেকেই নতুন কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়ান। কিন্তু ২৯ বছরের এক যুবকের সিদ্ধান্ত রীতিমতো নজর কেড়েছে। চাকরি হারানোর চার মাস পর ঘণ্টায় ১১ ডলার বেতনের বাসন মাজার পার্ট-টাইম কাজ বেছে নিয়েছেন তিনি। অথচ তাঁর কাছে এমন সঞ্চয় রয়েছে, যা দিয়ে আরও কয়েক বছর অনায়াসে চলতে পারতেন।

এপ্রিল মাসে চাকরি হারানোর পর ওই যুবক নয় মাসের সেভারেন্স প্যাকেজ পান। পাশাপাশি তাঁর সঞ্চয়ও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু শতাধিক চাকরির আবেদন এবং ১৫টিরও বেশি ইন্টারভিউ দিয়েও নতুন চাকরি পাননি তিনি। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার ফলে ধীরে ধীরে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করে। অফিসের কাজ না থাকায় নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছিল বলেও জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বাসন মাজার কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

ওই যুবক জানান, ‘‘আমি ঘণ্টায় ১১ ডলারের একটি পার্ট-টাইম ডিশওয়াশিংয়ের কাজ নিয়েছি। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু করব। কখনও ভাবিনি এমন জায়গায় আসব। তবে টাকার জন্য এই কাজ করছি না, নিজেকে কোনওভাবে প্রয়োজনীয় মনে করার জন্য করছি।’’ তাঁর কথায়, এই কাজের মাধ্যমে প্রতিদিনের জীবনে একটা নির্দিষ্ট রুটিন ফিরবে। কয়েক ঘণ্টা কাজের মধ্যে থাকলে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাও কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর সঞ্চয় এমন পর্যায়ে রয়েছে যে প্রায় পাঁচ বছর কাজ না করেও জীবন চালিয়ে নিতে পারবেন। তবু শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নিরাপত্তা যে সুখী থাকার জন্য যথেষ্ট নয়, এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেটিই উপলব্ধি করছেন তিনি।

চাকরি হারানোর পর অবসাদ ও উদ্বেগ বাড়তে থাকলেও নতুন কাজটি তাঁকে মানসিকভাবে স্থির হতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন ওই যুবক। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে অর্থের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট রুটিন এবং নিজের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে অবসর জীবন নিয়েও ভাবিয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও যদি দিনের অধিকাংশ সময় করার মতো কোনও কাজ না থাকে, তাহলে মানুষ আদৌ কতটা সুখী থাকতে পারে? তাঁর এই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ নিজেদের চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। কেউ জানান, কর্পোরেট চাকরি হারানোর পর তাঁরা বিভিন্ন ধরনের ছোট কাজ করেছেন। আবার কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানুষের পরিচয় শুধুমাত্র তাঁর চাকরি দিয়ে তৈরি হয় না—তবে কাজের সঙ্গে তৈরি হওয়া দৈনন্দিন রুটিনটিও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed