Last Updated:

ছোটবেলা থেকেই আমরা দুধ-দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে শুনে আসছি। এতে থাকা পুষ্টি উপাদানের কারণেই মানুষ এগুলি খেয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা যদি আপনাকে বলি, এমন একটি কারখানা রয়েছে যেখানে দুধ, দই এবং পনির তৈরি করা হয়, তাও আবার কোনও গরুর কাছ থেকে এক ফোঁটাও দুধ না দুইয়ে—তাহলে কি আপনি বিশ্বাস করবেন?

এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে ল্যাকটোজ-মুক্ত দুধ!
এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে ল্যাকটোজ-মুক্ত দুধ!

ছোটবেলা থেকেই আমরা দুধ, দই এবং পনিরের উপকারিতা সম্পর্কে শুনে আসছি। এগুলিতে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু আপনি কি বিশ্বাস করবেন যে এমন একটি কারখানা রয়েছে, যেখানে কোনও গরুর কাছ থেকে এক ফোঁটা দুধও না দুইয়েই আসল দুধ, দই এবং পনির তৈরি করা হচ্ছে? হ্যাঁ, এটি ল্যাকটোজ-মুক্ত দুধ, যা প্রচলিত দুধের পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।

ইজরায়েলি সংস্থা রিমিল্ক (Remilk)-এর সৌজন্যে এই কাজ সম্ভব হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তারা বিশ্বের প্রথম এমন একটি ডেয়ারি কারখানা তৈরি করেছে, যেখানে গরুর কোনও প্রয়োজন হয় না। রিমিল্ক প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তিতে ইস্টের মতো অণুজীবগুলিকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়, যাতে তারা গরুর দুধে থাকা প্রোটিন তৈরি করতে পারে। এই প্রোটিনগুলি রাসায়নিকভাবে গরুর দুধে পাওয়া প্রোটিনের মতোই। এর ফলে তৈরি দুধ স্বাদ এবং পুষ্টিগুণে প্রচলিত দুধের মতোই হয়। তবে এতে ল্যাকটোজ, কোলেস্টেরল, হরমোন এবং অ্যান্টিবায়োটিক থাকে না।

আসল দুধের চেয়েও বেশি গুণসম্পন্ন:

সংস্থাটি একে “ Real Dairy, No Cows” বলে অভিহিত করে। এই দুধ থেকে দই, পনির, আইসক্রিম এবং অন্যান্য ডেয়ারি পণ্যও তৈরি করা হচ্ছে। রিমিল্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অভিভ ভল্ফ এবং ওরি কোহাভি ২০১৯ সালে। সংস্থাটি আমেরিকার FDA, সিঙ্গাপুর এবং ইজরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে। সম্প্রতি ইজরায়েলে গ্যাড ডেয়ারিজ-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে “দ্য নিউ মিল্ক” চালু করা হয়েছে। এটি ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং শীঘ্রই সুপারমার্কেটেও পাওয়া যাচ্ছে। বারিস্তা স্টাইল মিল্ক-ও বাজারে এসেছে, যা কফিতে ভালো ফোম তৈরি করে।

পরিবেশের দিক থেকেও এই প্রযুক্তিকে অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হচ্ছে। রিমিল্কের দাবি, তাদের প্রক্রিয়ায় প্রচলিত ডেয়ারির তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ জমি, ৪ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং ৫ শতাংশ জল ব্যবহার হয়। পশুর উপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় পশুকল্যাণও উন্নত হয়।

বাড়ছে চাহিদা:

বর্ধিত জনসংখ্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে ডেয়ারি প্রডাক্টের চাহিদা মেটানোর জন্য এটিকে একটি টেকসই পদ্ধতি বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট ব্যক্তিরা এটি সহজেই হজম করতে পারেন। কোলেস্টেরল না থাকায় এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হতে পারে। পুষ্টিমূল্য বজায় রাখতে এতে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন যোগ করা হয়।

তবে দুধের প্রোটিনে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযুক্ত নয়, কারণ এর প্রোটিন আসল দুধের প্রোটিনের মতোই। ভারতীয়দের খাদ্যসংস্কৃতি ও পুষ্টিতে দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ভারতের মতো দেশে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী দেশ হলেও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং পশুপালন সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। কয়েকটি ভারতীয় স্টার্টআপও প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। খরচ কমানো সম্ভব হলে এবং নিয়মকানুন স্পষ্ট হলে এই প্রযুক্তি ভারতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed