Last Updated:

Tribal Art Revival: কংক্রিটের ভিড়ে মুছে যেতে বসা জঙ্গলমহলের প্রাচীন ‘সহরায়’ চিত্রকলাকে বাঁচিয়ে রাখতে অনন্য লড়াই ঝাড়গ্রামের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী মধুশ্রী হাতিয়ালের। ‘মরমীয়া’ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শেকড় রক্ষার কাজ করছেন তিনি।

+

নতুন

নতুন উপায়ে প্রাচীন আদিবাসী শিল্প বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস

ঝাড়গ্রাম, রঞ্জন চন্দ: আধুনিকতার চাপে এবং কংক্রিটের ইমারতের ভিড়ে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ‘সহরায়’ চিত্রকলা, ঠিক তখনই পরম মমতায় তাকে শহরের বুকে ফিরিয়ে আনছেন এক শিল্পী। তিনি ঝাড়গ্রামের গর্ব এবং জাতীয় পুরস্কার জয়ী লোকশিল্পী মধুশ্রী হাতিয়াল। একসময় কার্তিক মাসে গো-বন্দনার সময় আদিবাসী গ্রামগুলির মাটির দেওয়াল সেজে উঠত এই অপরূপ চিত্রকলায়। সেখানে রঙ আর রেখার মেলবন্ধনে ধরা দিত আদিবাসী জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক আর পশুপালনের রোজকার গল্প।

সময়ের স্রোতে মাটির বাড়ির জায়গা নিয়েছে ইটের গাঁথনি, আর তার সঙ্গেই ধীরে ধীরে মুছে যেতে বসেছিল এই প্রাচীন শিল্প। তবে এই মৃতপ্রায় পরম্পরাকে হারিয়ে যেতে দেননি মধুশ্রী। এই লোকসংস্কৃতিতে উৎসবের পাঁচ দিন আগে থেকে প্রতি রাতে গৃহপালিত পশুদের শিংয়ে তেল দিয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। পুরো বাড়ি, লাঙল, জোয়াল ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হয়। চালের গুঁড়ো জলে মিশিয়ে গরুর চাড়ি, গোয়ালঘর এবং বাড়ির আঙিনা থেকে প্রতিটি ঘরের দরজা পর্যন্ত বাহারি আলপনা আঁকা হয়। সন্ধ্যার পর শুরু হয় ঘি ও তেলের প্রদীপ প্রজ্বালন পর্ব, যেখানে আয়ের উৎসসূচক স্থানগুলিতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: মালদহ মেডিক্যালে একদিনেই প্রাণ গেল ১০ সদ্যজাতর, রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্যভবনের! কী বলছেন সুপার?

এই মৃতপ্রায় শিল্পকে বাঁচাতে প্রায় কুড়ি বছর আগে মধুশ্রী হাতিয়াল গড়ে তোলেন ‘মরমীয়া’ নামের একটি ট্রাস্ট। তাঁর এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ঝাড়গ্রাম বা পশ্চিম মেদিনীপুরেই সীমাবদ্ধ নেই, ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ এবং ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা জুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে এই শিল্পের ছোঁয়া। বর্তমানে প্রায় আট থেকে নয় হাজার মানুষ তাঁর এই ‘মরমীয়া’ ট্রাস্টের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে এই শিল্প সংরক্ষণের কাজ করে চলেছেন। কংক্রিটের রুক্ষ দেওয়ালে রঙ-তুলির আঁচড়ে তাঁরা ফুটিয়ে তুলছেন আদিবাসী জনজীবনের স্পন্দন।

আরও পড়ুন: আবৃত্তি করে গোটা দেশ কাঁপিয়ে দিল বাংলার ‘এই’ খুদে, নয়া রেকর্ডে গর্বে ভাসছে গোটা জেলা

লোক ও আদিবাসী সংস্কৃতি নিয়েই তাঁর কাজ। ২০১৮ সালে ঝুমুর গানের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি’ জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও ২০২৪ সালে ‘কাশী বৈশ্বিক গৌরব সম্মান’ সহ আরও বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। আগামী প্রজন্মের কাছে নিজেদের শেকড় এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর এই নিরলস লড়াই প্রমাণ করে যে, শেকড় ছাড়া যেমন গাছের বিস্তার সম্ভব নয়, তেমনি নিজস্ব সংস্কৃতি ছাড়া কোনও জাতিরও প্রকৃত আত্মপ্রকাশ অসম্পূর্ণ।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *