Last Updated:
Durga Puja 2026: কৃষ্ণনগরের তরুণ মৃৎশিল্পী ও কলেজ পড়ুয়া অগ্নিভ পালের তৈরি সুদৃশ্য ফাইবারগ্লাসের দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে জাপানে। তিন মাসের পরিশ্রমে তৈরি এই প্রতিমা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মৃৎশিল্পের গৌরব আরও বাড়িয়ে দিল। মাত্র ১২-১৪ বছর বয়স থেকেই পারিবারিক সূত্রে বাবার কাছে প্রতিমা গড়ার পাঠ নেন অগ্নিভ।
কৃষ্ণনগর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: মাটির পুতুল ও মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বখ্যাত নদিয়ার কৃষ্ণনগর। সেই ঐতিহ্যের ধারাকে বিশ্বদরবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন কৃষ্ণনগরের কলেজ পড়ুয়া মৃৎশিল্পী অগ্নিভ পাল। তাঁর নিপুণ হাতের জাদুতে তৈরি সুদৃশ্য দুর্গা প্রতিমা এবার সুদূর জাপানের মাটিতে পূজিত হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই সৃষ্টি পৌঁছে যাওয়ায় কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী মহলে বইছে আনন্দের আবহ।
কৃষ্ণনগর ষষ্ঠীতলা কুমোরপাড়ার বাসিন্দা অলোক পালের ছেলে অগ্নিভ কৃষ্ণনগর ডিএল (দ্বিজেন্দ্রলাল) কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ১২-১৪ বছর বয়স থেকেই পারিবারিক সূত্রে বাবার হাত ধরে তাঁর প্রতিমা তৈরির হাতেখড়ি। বর্তমানে তিনি কৃষ্ণনগর ঘূর্ণির রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিল্পী সুবীর পালের কাছে শিল্পের পাঠ নিচ্ছেন এবং কাজ করছেন।
অগ্নিভর তৈরি এই প্রতিমাটির উচ্চতা প্রায় চার ফুট দু’ইঞ্চি এবং চওড়া সাড়ে চার ফুট। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে রূপ পেয়েছে এই অনন্য সৃষ্টি। প্রতিমাটি অত্যন্ত নিখুঁত ও টেকসই করতে ফাইবারগ্লাসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে মাটির কাঠামো তৈরি করে প্লাস্টারের ছাঁচ ঢালাইয়ের পর তা ফাইবারগ্লাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর প্রতিমার রঙ এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চক্ষুদান করেছেন অগ্নিভ নিজেই।
জাপানে প্রতিমা পাঠানোর সূত্রপাত কীভাবে? এ প্রসঙ্গে অগ্নিভ জানান, তিন বছর আগেও তাঁর তৈরি প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার একটি প্রতিমা জাপানে পাঠানো হয়েছিল। জাপানে বসবাসকারী এক পরিচিত পরিবারের মাধ্যমেই পুনরায় এই নতুন প্রতিমা তৈরির বরাত আসে তাঁর কাছে। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প জিআই (GI) স্বীকৃতি লাভ করায় স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে নতুন উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। সেই আবহে নিজের তৈরি প্রতিমা বিদেশের মাটিতে পাড়ি দেওয়ায় গর্বিত এই তরুণ শিল্পী। ভবিষ্যতে মৃৎশিল্পকেই নিজের পেশা ও সাধনা হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান অগ্নিভ। প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বিদেশের মাটিতে পৌঁছে দিয়ে বাংলার নাম আবারও উজ্জ্বল করলেন কৃষ্ণনগরের এই তরুণ তুর্কি।
