Last Updated:

Dashavatar Rakhi: মল্ল রাজাদের আমলের ঐতিহ্যবাহী দশাবতার তাস এবার রাখিতে! বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের শিল্পী শিল্পা সূত্রধরের হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে বিষ্ণুর ১০ রূপ। তবে বাজারের মন্দায় চিন্তিত শিল্পী। রঙ-তুলির টানে রাখির ছোট ক্যানভাসেই ফুটে উঠছে বিষ্ণুর দশটি অবতারের রূপ। রাখর আগেও ব্যবসায় নেই সেই পুরনো চাহিদা।

+

হাতে

হাতে তৈরি এই রাখি এখনও বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্য, তবে কমছে চাহিদা

বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রতিবছরই বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের ইতিহাসের কোনও না কোনও অনুষঙ্গ জায়গা করে নেয় রাখিতে। তবে এই বছর সেই উৎসাহে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিষ্ণুপুরের শিল্পী শিল্পা সূত্রধরের তৈরি ‘দশাবতার রাখি’তে মল্ল রাজাদের ঐতিহ্য ফুটে উঠলেও বাজারে তার চাহিদা আশানুরূপ নয়। অথচ এই রাখির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষ্ণুপুরের প্রাচীন দশাবতার তাসের ইতিহাস। রাখি বন্ধনের ভ্রাতৃত্বের বার্তার সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন শিল্পা। অভিনব এই রাখি দেখে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে এর পিছনের ইতিহাস জানতে চাইছেন।

বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে দশাবতার তাস। কথিত ইতিহাস অনুযায়ী, মল্ল রাজা বীর হাম্বীর আকবরের রাজদরবারে গিয়ে তাস খেলা দেখে বিষ্ণুপুরে নিজস্ব ধারায় তাস তৈরির কথা ভাবেন। তাঁর নির্দেশে বিষ্ণুপুরের শিল্পী কার্তিক ফৌজদার তৈরি করেন দশাবতার তাস। মল্ল রাজারা অবসর সময়ে চিত্তবিনোদনের জন্য এই তাস খেলতেন। প্রতিটি তাসে ফুটে উঠত বিষ্ণুর দশ অবতারের কোনও না কোনও রূপ। সময়ের স্রোতে মল্ল রাজাদের রাজত্ব বিলীন হয়েছে, বদলেছে মানুষের বিনোদনের মাধ্যমও। অ্যান্ড্রয়েড ও ডিজিটাল যুগে সেই ঐতিহ্যবাহী দশাবতার তাসও ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ইতিহাসকেই নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা হয় দশাবতার রাখিতে।

আরও পড়ুন: ঝাঁ-চকচকে স্কুল, অথচ বর্ষা এলেই রূপ নেয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের! শিশুদের পড়াশোনা থমকে যাওয়ার কারণ কী?

দশাবতার তাসের আদলেই তৈরি করা হয় এই বিশেষ রাখি। সুতির কাপড়ের সঙ্গে তেঁতুলবীজের আঠা ও খড়িমাটি ভালভাবে মিশিয়ে একটি শক্ত উপাদান তৈরি করা হয়। সেটি শুকিয়ে চাকতির মতো করে কেটে নেওয়া হয়। এরপর সেই চাকতির ওপর রং ও তুলির সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হয় বিষ্ণুর দশ অবতারের বিভিন্ন রূপ। এক একটি রাখিতে স্থান পায় এক একটি অবতার। বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা শিল্পী শিল্পা সূত্রধর রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরি করছেন এই রাখি বিগত তিন বছর। তাঁর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নতুন ধরনের রাখি তৈরি করা নয়, বরং রাখির মাধ্যমে দশাবতার তাসের ইতিহাসকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। শিল্পার কথায়, “দশাবতার তাস যাতে মানুষের মধ্যে আরও ছড়িয়ে পড়ে, সেই কারণেই রাখি বন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে দশাবতার রাখি তৈরি করি তিন বছর যাবৎ।”

আরও পড়ুন: মূর্তি সেতু উদ্বোধনের আগেই বন্যপ্রাণ সুরক্ষার দাবি, ভারী যান রুখতে হাইটবার চান পরিবেশপ্রেমীরা

তবে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয়ে শিল্পী। শিল্পীরা জানিয়েছেন, এবছর এই রাখির চাহিদা একেবারেই কম। ফলে আগামী দিনে তিনি কতদিন এই রাখি তৈরি করতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও অভিনব এই রাখি দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, জানতে চাইছেন দশাবতার তাসের ইতিহাস। ফলে বাণিজ্যিক সাফল্য না এলেও মানুষের মধ্যে ঐতিহ্যটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই আগ্রহ যদি বাজারের চাহিদায় পরিণত না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই রাখি হয়ত আর দেখা যাবে না। একটি রাখির মাধ্যমে মল্ল রাজাদের ইতিহাসকে দূরদূরান্তে পৌঁছে দেওয়ার যে চেষ্টা শিল্পা করেছেন, তার ভবিষ্যৎ তাই এখন নির্ভর করছে মানুষের আগ্রহ এবং চাহিদার ওপর।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed