সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সকালের শিশিরভেজা পিচে ব্যাটারদের যাতে সমস্যা না হয়, সেই কারণে ম্যাচের আগের দিন ভেজা উইকেটে ক্রিকেটারদের ব্যাটিং প্র্যাক্টিস করিয়েছিলেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল (Laxmiratan Shukla)। সোমবার টস হেরে যখন মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাট করতে নামল বাংলা, মনে হয়েছিল সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে প্রথম সেশনে ব্যাট করবেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুদীপ কুমার ঘরামিরা।
কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই দেখা গেল অন্য ছবি। ইডেনে প্রথম দিন লাঞ্চ বিরতিতে বাংলার স্কোর ২৬ ওভারে ১০১/৭! ঘরের মাঠে প্রবল চাপে বাংলা। দাপট দেখালেন মহারাষ্ট্রের বোলাররা।
যদিও মহারাষ্ট্রের বোলারদের দক্ষতা যতটা, সমান কৃতিত্ব প্রাপ্য বাংলার ব্যাটারদের। ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকার চেষ্টাই করলেন না কেউ।
শুরুটা হল অভিমন্যু ঈশ্বরণকে দিয়ে। ১২ বলে ১০ রান করে রাজ্যবর্ধন হাঙ্গরগেকরের বলে বাংলার অধিনায়ক বাইরের বলে খোঁচা দিলেন প্রথম স্লিপে। সচিন ধাস ক্যাচ নিলেন। মহারাষ্ট্রের ক্রিকেটার স্লিপে যেন ক্যাচিং প্র্যাক্টিস করছিলেন। প্রথম সেশনে তিনটি ক্যাচ গিয়েছিল ধাসের কাছে। তিনটি সুযোগই কাজে লাগান।
অঙ্কুর পাল ১ রান করে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। সূরয সিন্ধু জয়সওয়ালকে ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমোশন দেওয়া হয়েছিল। ২ বলে ০ করে তিনিও স্লিপে খোঁচা দিয়ে ফিরলেন। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এই মরশুমে ৬ ইনিংসে তাঁর সর্বোচ্চ রান ৩৪! সোমবার তনয় সাঙ্ঘভির বলে জাজমেন্ট দিয়ে এলবিডব্লিউ হলেন। ৭ রান করে। সুদীপ ঘরামিও খানিকটা একই ধাঁচে বোল্ড হলেন। সাঙ্ঘভির বলে জাজমেন্ট দিয়েছিলেন। অফস্টাম্প উড়ে যায় তাঁর। ১৯ রানে।
এইরকম পরিস্থিতিতে বাংলার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান শাহবাজ আমেদ। তবে এদিন তিনি ০ রানে হাঙ্গরগেকরের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সুমন্ত গুপ্তও।
৭২/৭ হয়ে গিয়েছিল বাংলা। একটা সময় মনে হচ্ছিল, বাংলার স্কোর ১০০ পেরবে তো? সেখান থেকেই পাল্টা লড়াই চালাচ্ছেন অভিষেক পোড়েল ও প্রদীপ্ত প্রামানিক। লাঞ্চ বিরতিতে ৩৪ বলে ৩৮ রান করে ক্রিজে পোড়েল। প্রদীপ্ত ১৭ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত। অবিচ্ছেদ্য অষ্টম উইকেটে দুজনে ২৯ রান যোগ করেছেন। প্রদীপ দাধে ৩ উইকেট নিয়েছেন। হাঙ্গরগেকরের ২ উইকেট।
আরও পড়ুন: কলকাতায় দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রস্তুতি শিবিরে সৌরভের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন সমীর-আশুতোষদের
