সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল মঙ্গলবার দিনের খেলার শেষে বলেছিলেন, পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই বাইশ গজে দ্বিতীয় ইনিংসেও চাপে বাংলার ব্য়াটিং। মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার স্কোর ৭৬/৪। প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানের লিড হজম করেছিল বাংলা। সেই ব্যবধান ঘোচাতেই ৪ উইকেট খুইয়ে বসেছে বাংলা। মাত্র ১ রানের লিড নিয়েছে। বকলমে বাংলার দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর তাই ১/৪!
রঞ্জি ট্রফিতে গত মরশুমে অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে কাটাচ্ছেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। বারাসতের বাঁহাতি ক্রিকেটারের রঞ্জি ট্রফিতে শেষ ১০ ইনিংসে করেছেন ৬৫ রান! সর্বোচ্চ ৩৪! মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই ইনিংসে করলেন ৭ ও ০। ৩৫ ছুঁই ছুঁই ক্রিকেটারকে আর কতদিন বয়ে বেড়ানো হবে, প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
একইরকম প্রশ্ন উঠছে অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণকে নিয়ে। বড় ম্যাচে তিনি রান করতে পারেন না বলে কানাঘুষো রয়েছে বাংলা ক্রিকেটে। মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দল যখন চাপে, তখন দুই ইনিংসে অভিমন্যু করলেন ১০ ও ৯। এই মরশুমেই অভিষেক হয়েছে অঙ্কুর পালের। প্রায় ২৯ বছরের ক্রিকেটারকে বাংলার ভবিষ্যৎ বলে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। এই ম্য়াচে যেখানে চাপের মুখে তাঁর নিজেকে প্রমাণ করা সুযোগ ছিল, সেখানে দুই ইনিংসে করলেন ১ ও ৩২। সব মিলি রঞ্জি অভিষেকের মরশুমে ৮ ইনিংসে তাঁর সর্বোচ্চ ৬৬। সুদীপ ঘরামিও ইডেনে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ।
এমনিতেই বৃষ্টির জন্য বুধবার প্রথম সেশনের খেলা পণ্ড হয়। লাঞ্চের পর খেলা শুরু হতে মহারাষ্ট্রের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২১৮ রানে। বাংলাকে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিল মহারাষ্ট্রের দশম উইকেট জুটি। ১৫১ বলে ৬০ রানের পার্টনারশিপ গড়লেন তনয় সাঙ্ঘভি ও প্রদীপ দাধে। ৪ উইকেট মহম্মদ শামির।
ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের খেলার শেষে বাংলার স্কোর ২৪ ওভারে ৭৬/৪। সব মিলিয়ে বুধবার ২৭.৫ ওভার খেলা হল। বৃহস্পতিবার ম্যাচের শেষ দিন। বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল এখনও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। সন্ধ্যায় ইডেন ছেড়ে বেরনোর সময় বললেন, ‘আমরা এখান থেকেও ম্যাচ জিততে পারি। ওদের একটা সেশনে অল আউট করে দিতেও তো পারি।’
প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরির পর ২৩ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত অভিষেক পোড়েল। এখান থেকে দুশো বা শ দেড়েক রানের লিড। তারপর সরাসরি জয়ের জন্য ঝাঁপানো। বাংলার কোচ শেষদিন থ্রিলারের স্বপ্ন দেখছেন।
