অকল্যান্ড: প্রথম ওয়ান ডে ম্য়াচে ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল(Indian Cricket Team)। এই সিরিজেই দলে ফিরেছেন বিরাট কোহলি(Virat Kohli) ও রোহিত শর্মা(Rohit Sharma)। দুই অভিজ্ঞ তারকার জন্যই সিরিজের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। শেষবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলতে নেমেছেন ২ তারকা। প্রথম ম্য়াচে ব্যাট হাতে রান করতে না পারলেও ফিল্ডিংয়ে এক দারুণ ফিটনেসের পরিচয় দিয়েছেন ৩৯ বছরের রোহিত। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে কিউয়িরা যখন ধীরে ধীরে নিজেদের মেলে ধরছিল, তখনই দুরন্ত ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে একটি রান আউট করেন রোহিত। যা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বলেই মনে করেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল।
খেলার শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে গিল বলেন, ‘আমার মনে আমাদের বোলিং ও ফিল্ডিং খুব ভাল হয়েছিল। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। রোহিত ভাইয়ের করা ওই রান আউটটা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। মিচেল ও ফিলিপসের জুটিটা আমাদের জন্য চাপ বাড়াচ্ছিল একটা সময়ে। সেখান থেকে রোহিত ভাই ওভাবে অবিশ্বাস্যভাবে শরীর ছুড়ে রান আউটটা করল, এটা দারুণ একটা মুহূর্ত। এছাড়া দলগতভাবেও আমরা দারুণ পারফর্ম করেছি।’
পাঁচ ম্য়াচের ওয়ান ডে সিরিজে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে কিউয়িরা ১৮৫ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় বোলারদের মধ্য়ে অর্শদীপ সিংহ ৪ উইকেট নেন, গুরনূর ব্রার ৩ উইকেট ও অংশুল কম্বোজ ২ উইকেট নেন। শেষের দু’জন তো নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে নজরও কেড়েছেন। ব্রার নিজের স্পেলে ৪৪ রান খরচ করেছেন, সেখানে কম্বোজ ম্য়াচের সেরা হয়েছেন নিজের ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়ে। গিল বলেন, ‘অংশুল এমন একজন বোলার যে এই ধরনের কন্ডিশনের জন্য একদম উপযুক্ত। বল সিম করানোর চেষ্টা করে ও। পুরনো বলেও দারুণ ছন্দে থাকে। উইকেট থেকে যখন সাহায্য মিলছিল না, তখন ব্রার তাঁর গতি দিয়ে বাউন্সের মাধ্য়মে ব্যাটারদের চাপে ফেলতে চেয়েছিল।’
উল্লেখ্য, ভারতীয় দল যখন রান তাড়া করা শুরু করে, তখন বারবার বৃষ্টি এসে খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। শেষে ওভার সংখ্য়া কমিয়ে ৩২ এ আনা হয়। এভাবে বারবার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রিজে সেট হওয়া ব্যাটারদের একটু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছিল বলে মনে করেন গিল। তিনি বলেন, ‘ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টির জন্য খেলায় তাল কাটলে তা কিছুটা ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। বৃষ্টির পর উইকেট একটু বেশি দ্রুতগতির হয়ে গিয়েছিল ও অতিরিক্ত স্য়ুইং করছিল। জয়ের লক্ষ্যও কমে এসেছিল। তাই আমরা আমাদের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছিলাম। আমার মনে হয় বিরাট ভাই যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তা আমাদের জন্য কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছিল।’ রান তাড়া করতে নেমে বিরাট ৫১ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন ও গিল ৩৭ রান করেন।
