Last Updated:
কিন্তু নাসিককে কেন ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ বলা হয়? আর নাসিকের লাসালগাঁওই বা কেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজের বাজার?
পেঁয়াজ উৎপাদনের কথা উঠলেই দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে আসে মহারাষ্ট্রের নাম। ভারতের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্র। আর এই রাজ্যের নাসিক জেলা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাণিজ্য ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জেলার লাসালগাঁও বাজারের প্রভাব আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের দাম ও সরবরাহের উপরও পড়ে।
কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা APEDA-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ভারতের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ৪৪.০৭ শতাংশই হয়েছে মহারাষ্ট্রে। ফলে দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে এই রাজ্যের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। মহারাষ্ট্রের মধ্যে নাসিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই জেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। পাশাপাশি ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পাইকারি বাণিজ্যের জন্যও তৈরি হয়েছে বিস্তৃত পরিকাঠামো। নাসিকের লাসালগাঁও এই পুরো ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
নাসিক জেলার নিফাড তালুকায় অবস্থিত লাসালগাঁও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজের পাইকারি বাজার। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখানে পেঁয়াজ নিয়ে আসেন। এরপর পাইকারি বাজারে নিলাম ও বাণিজ্যের মাধ্যমে সেই পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। বাজারে প্রতিদিন কত পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে, তার গুণমান কেমন এবং চাহিদা কতটা—এই সবকিছুর উপর নির্ভর করে দামের ওঠানামা। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজের আগমন এবং নিলামভিত্তিক বাণিজ্যের কারণে লাসালগাঁওয়ের বাজার দেশের পেঁয়াজের সরবরাহ ও দামের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নাসিক মূলত লাল পেঁয়াজের চাষ ও বাণিজ্যের জন্যও পরিচিত। এই অঞ্চলের পেঁয়াজের চাহিদা শুধু দেশের বাজারেই নয়, বৃহত্তর কৃষিপণ্য বাণিজ্যেও রয়েছে। লাসালগাঁওয়ের পেঁয়াজ GI বা Geographical Indication তকমাও পেয়েছে। APEDA-র তালিকায় মহারাষ্ট্রের GI পণ্যগুলির মধ্যে এর উল্লেখ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজের আগমন, নিলাম এবং দেশজুড়ে বাণিজ্যিক সংযোগের কারণে লাসালগাঁও আজ ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। তাই নাসিককে ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ বলা এবং লাসালগাঁওকে দেশের অন্যতম বড় পেঁয়াজ বাজার হিসেবে চিহ্নিত করার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো।

