Last Updated:
West Medinipur News: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন দু’নম্বর ব্লকের বাসিন্দা অনুশ্রী বেরা ফেলে দেওয়া উপকরণ ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করছেন।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: সংসারের দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততা সামলে নিজের শৈল্পিক শখকেই উপার্জনের হাতিয়ার করে তুলেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক সাধারণ গৃহবধূ। দাঁতন দু’নম্বর ব্লকের খণ্ডরুই এলাকার বাসিন্দা অনুশ্রী বেরার হাতের জাদুতে এখন রূপ বদলাচ্ছে সাধারণ ও ফেলে দেওয়া উপকরণ। ছোটবেলা থেকেই আঁকা এবং হাতের কাজের প্রতি তীব্র টান ছিল তাঁর। সেই ভালবাসা এবং সৃজনশীল ভাবনাকে সম্বল করেই তিনি তৈরি করছেন দৃষ্টিনন্দন সব ঘর সাজানোর জিনিস, যা তাঁকে এনে দিচ্ছে নিশ্চিত বাড়তি রোজগার এবং আত্মতৃপ্তি।
সংসারের সমস্ত কাজকর্ম শেষ করে যখনই একটু অবসর মেলে, তখনই রং-তুলি, এমসিল আর ক্লে নিয়ে বসে পড়েন অনুশ্রী। তাঁর সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মূলত ফেলে দেওয়া নানা জিনিস— যেমন সসের বোতল, প্লাস্টিকের পাইপ কিংবা পরিত্যক্ত মেশিনারি বোর্ড পেয়ে যায় এক নতুন শৈল্পিক রূপ। অব্যবহৃত ও বাতিল জিনিসপত্রকে এভাবেই তিনি নতুন করে সৌখিন ও ব্যবহার উপযোগী করে তুলছেন। এর পাশাপাশি তিনি তৈরি করছেন আকর্ষণীয় ফ্লাওয়ার ভাস, নানা নকশার ওয়াল হ্যাঙ্গিং এবং চোখজুড়োনো বিভিন্ন শোপিস। ক্রেতাদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজ জিনিসও নিখুঁতভাবে বানিয়ে দেন তিনি।
এই শিল্পকর্ম তৈরিতে খরচ নিতান্তই সামান্য, অথচ তা বেশ লাভজনক। অনুশ্রী জানান, নিজের কল্পনাশক্তি আর কিছুটা ধৈর্য থাকলে খুব কম পুঁজিতেই এই কাজ শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে অনলাইন মাধ্যম ছাড়াও অফলাইনে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর তৈরি বাহারি সামগ্রী। বাড়িতে বসেই অবসর সময়ের এই কাজের হাত ধরে প্রতি মাসে অনায়াসেই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। ঘরের কাজের পাশাপাশি এমন বাড়তি রোজগার পরিবারেও জোগাচ্ছে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য।
অনুশ্রীর এই উদ্যোগ এখন শুধু তাঁর একার উপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এলাকার অন্যান্য যুবক-যুবতী ও গৃহবধূদের কাছেও স্বনির্ভর হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে সামান্য খরচে কীভাবে নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, সেই ধারণাই দিচ্ছেন এই গৃহবধূ। তাঁর কথায়, ঘরে বসে অলস সময় না কাটিয়ে সদিচ্ছা ও সামান্য পরিশ্রমে অন্যের মত যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারেন। গৃহকোণ থেকে শুরু হওয়া অনুশ্রীর এই যাত্রা আজ এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
