Last Updated:

Knowledge Story: পাহাড়ে এক টানা মেঘভাঙা বৃষ্টি মানেই তিস্তা নদীর রুদ্ররূপ চিন্তা বাড়িয়ে দেয় মানুষের। তবে তারমধ্যে মানুষকে আগাম সতর্ক করতে ও বিপর্যয় এড়াতে দিন-রাত এক করে কাজ করেন বিশেষজ্ঞরা। মাপা হয় জলের গতি, জলস্তর ইত্যাদি। কোন প্রযুক্তিতে হয় এই কাজ, জানুন।

+

আধুনিক

আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে নদীর মতিগতি বোঝার চেষ্টা

জলপাইগুড়ি, সুরজিৎ দে: পাহাড়ে বৃষ্টি হলেই তিস্তায় হড়পা বানের আতঙ্ক! খরস্রোতা নদীর প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি মাপে সিডব্লিউসি। পাহাড়ে একটানা মেঘভাঙা বৃষ্টি মানেই সমতলে তিস্তার রুদ্রমূর্তি ধারণের আশঙ্কা। উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে পাহাড়ি নদী ফুঁসে ওঠার খবর মুখে মুখে ফিরলেও, কীভাবে প্রতি মুহূর্তে এই খরস্রোতা নদীর মতিগতি নির্ধারণ করা হয়, তা নিয়ে সাধারণের কৌতূহল কম নয়। জলপাইগুড়ির তিস্তা সড়ক সেতুর ঠিক পাশেই দিন-রাত জেগে সতর্ক পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC) এবং সেচ দফতর।

নদীর জল কতটা বাড়ল, স্রোতের টান কতটা আর তা বিপদসীমার ঠিক কতটা কাছে রয়েছে সেই প্রতিটি সূক্ষ্ম হিসেব কষে বের করতেই সেতু চত্বরে চলছে আধুনিক বিজ্ঞানের অবিরাম নজরদারি। নজরদারির এই কর্মযজ্ঞ মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠির ওপর দাঁড়িয়ে। ওয়াটার লেভেল বা জলস্তর, ডিসচার্জ বা জলপ্রবাহের গতি এবং সিল্ট অর্থাৎ জলে পলির ঘনত্ব। তিস্তা সেতুর পিলারে বসানো বিশেষ গেজ স্কেলের মাধ্যমে নদীর বর্তমান উচ্চতা মাপা হয়। স্বাভাবিক অবস্থা পেরিয়ে জল সংরক্ষিত বা চূড়ান্ত বিপদসীমার কতটা কাছে পৌঁছল, এই স্কেলের রিডিং থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে ফের ধেয়ে আসছে তুফানি তাণ্ডব..! জরুরি কাজ সারতে হাতে কতটা সময়? লেটেস্ট আপডেট

তবে পাহাড়ি নদীর আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে তার ঘূর্ণি আর স্রোতের গভীরে। সেই স্রোতের গতিবেগ নিখুঁতভাবে মাপতে নদীর বুক চিরে নামানো হয় ‘কারেন্ট মিটার’ নামের বিশেষ যন্ত্র। নদীর উপরিভাগ এবং তলদেশের জল ঠিক কী গতিতে বয়ে যাচ্ছে, তা নিরূপণ করে এই যন্ত্রটি। পাশাপাশি পাহাড় থেকে নেমে আসা ঘোলা জলে কী পরিমাণ পলি বা বালি মিশে রয়েছে, তা পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ‘স্যাম্পলার’। নদীর বিভিন্ন গভীরতা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় নদীগর্ভে পলি জমার হার ও সম্ভাব্য গতিমুখ বোঝার জন্য।

আরও পড়ুন: মেঘ-পাহাড়ের আঁকে বাঁকে জমাটি প্রেম, পুজোয় ফের মন হারানোর সুযোগ দিচ্ছে দার্জিলিং! আজই বুক করুন

সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তব্যরত কর্মীদের কথায়, পাহাড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় রিডিং নেওয়ার কাজ চলে। কারেন্ট মিটার, স্যাম্পলার ও স্কেলের এই প্রতি মুহূর্তের জরুরি তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেচ দফতর এবং জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে। নদীর এই নিখুঁত বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করেই সময়মতো চরাঞ্চল ও অববাহিকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *