Last Updated:

Bankura News: বাঁকুড়ার বিপ্লবী বিভূতিভূষণ সরকার প্রফুল্ল চাকীকে সঙ্গে নিয়ে ১৯০৭ সালে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে লাটসাহেবকে হত্যার চেষ্টা করেন, যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আলিপুর বোমা মামলায় গ্রেফতার হন বিভূতিভূষণ, স্বাধীনতার পর চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটান।

+

বাঁকুড়ার

বাঁকুড়ার বিপ্লবী বিভূতিভূষণ সরকারের কাহিনি

বাঁকুড়া: ভয়াবহ ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ, প্রাণে বাঁচলেন অত্যাচারী লাটসাহেব। ঘটনার পর অধরা চার বিদ্রোহী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মূল পাণ্ডা ছিলেন বাঁকুড়ার বিভূতিভূষণ সরকার। সঙ্গে ছিলেন প্রফুল্ল চাকী ও উল্লাসকর দত্ত। ১৯০৭ সালের ৪ ডিসেম্বর মাদ্রাজ মেলে লাটসাহেব কলকাতায় ফিরবেন—এই খবরের পরই বিপ্লবী সমিতির নেতৃত্বের তরফে বিভূতিভূষণের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের। পছন্দমতো সহযোদ্ধা বেছে নেওয়ার অনুমতিও পান তিনি। বিভূতিভূষণ বেছে নেন প্রফুল্ল চাকীকে। বাঁকুড়া শহরের লালবাজারে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই বিপ্লবীর পুরনো বাড়ি, যা আজও বহন করে ইতিহাসের সাক্ষ্য।

লাটসাহেবকে হত্যার লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা পুরী প্যাসেঞ্জারে চড়ে বেনাপুর স্টেশনে নামেন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছন নারায়ণগড়ে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ল্যান্ডমাইন বসানোর কাজ শুরু করেন তাঁরা। রাত তখন প্রায় আটটা থেকে নয়টা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রেললাইনের কাছে মাইন বসানো হয়। এরপর উল্লাসকর ও বারীণ কলকাতায় ফিরে যান এবং নারায়ণগড় স্টেশন থেকে মাদ্রাজ মেলে ওঠেন। কিন্তু সেই বিস্ফোরণেও লাটসাহেব প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তীকালে আলিপুর বোমা মামলায় গ্রেফতার হন বিভূতিভূষণ। জেল থেকে যখন মুক্তি পান, তখন দেশ স্বাধীন।

স্বাধীনতার পর বাঁকুড়ার নিজের বাড়িতে ফিরে এলেও এই বিপ্লবীর জীবন সহজ হয়নি। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেই দিন কাটাতে হয় তাঁকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছেন তাঁর পরিবারের অনেকেই। বিভূতিভূষণ সরকারের ছেলে সুধাংশু সরকার, যাঁকে সকলে ভালুক সরকার নামে চিনতেন, তিনিও আজ আর নেই। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে লালবাজারের সেই বাড়ি। বাড়িটির দেওয়াল, উঠোন আর আশপাশের পরিবেশ যেন মনে করিয়ে দেয় এক অগ্নিগর্ভ সময়ের কথা।

আজও সেই ইতিহাসকে বুকে ধরে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। চরমপন্থী স্বাধীনতা সংগ্রামী বিভূতিভূষণ সরকারের কনিষ্ঠ সন্তান ৮৩ বছরের জয়ন্ত সরকার এবং তাঁর নাতনি, শিক্ষিকা নন্দিতা সরকার স্মৃতিচারণ করলেন পরিবারের সেই গর্বের মানুষ নিয়ে। বিপ্লবীর আবক্ষ মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন তাঁরা। তাঁদের কথায় উঠে এল এমন কিছু অজানা গল্প, যা হয়তো ইতিহাসের পাতায় সেভাবে লেখা নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিবারের স্মৃতিতে বেঁচে থাকা সেই কাহিনিই আজ নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতার জন্য বাঁকুড়ার মাটিতেও একদিন কতটা তীব্র ছিল বিপ্লবের আগুন।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed