Last Updated:
East Bardhaman News: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এসেছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার বেশ কিছু জায়গায়। তারই মধ্যে অন্যতম একটি হল পূর্বস্থলী। পূর্বস্থলীর রায় পরিবারে এসেছিলেন নেতাজি। সেই থেকে আজও রায় পরিবারের কাছে নেতাজি ‘কুলদেবতা’।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর রায় পরিবার। ১৯৩১-৩২ সালের দিকে এই অঞ্চলে একটি রাজনৈতিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে এই রায় বাড়িতেই পা রেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। পূর্বস্থলী থানার প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী রমেশচন্দ্র রায় এবং তাঁর ভাই সুরেশচন্দ্র রায়ের আমন্ত্রণে নেতাজির এই আগমন ঘটেছিল। সেই ঐতিহাসিক দিন থেকেই নেতাজি যেন এই পরিবারের কাছে কেবল এক মহান নেতা নন, বরং সাক্ষাৎ ‘কুলদেবতা’।
পরিবারের সদস্য বিপ্লব রায় বলেন, “১৯৩১ সালে নেতাজি একটা মিটিং করেছিলেন এখানে। আমার বাবা এবং জ্যাঠামশাই স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেই সেইসময় কথোপকথন হয়েছিল।” সেসময় রমেশচন্দ্র রায়ের স্ত্রী তথা জেলা মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী শিবভাবিনী দেবী পরম মমতায় নিজের হাতে সিঙারা তৈরি করে খাইয়েছিলেন নেতাজিকে। সেই মিষ্টি স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে আজও প্রতি বছর নেতাজির জন্মদিনে পরিবারের তরফে সকলের মধ্যে সিঙারা বিলি করা হয়। অতীতে বাড়িতে তৈরি হলেও বর্তমানে অর্ডার দিয়ে সিঙারা বানিয়ে তা জনসমক্ষে বিতরণ করা হয়।
নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িতে তিনি যে চেয়ারে বসেছিলেন, সেটিকে রায় পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত সযত্নে একটি কাঁচের শোকেসে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। সেদিন পূর্বস্থলীর এই রায় বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ শেষ করে নেতাজি কাষ্ঠশালি হয়ে মেড়তলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। নেতাজির হাতের স্পর্শধন্য এই চেয়ারটি যেন তাদের কাছে পরম পবিত্র কোনো বস্তু।
সময় গড়ালেও নেতাজির সেই দুর্লভ স্মৃতি, আদর্শ ও পদার্পণের আবেগ আজও সমানভাবে বহন করে চলেছে পূর্বস্থলীর এই রায় পরিবার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নেতাজির প্রতি এই অগাধ ভক্তি ও শ্রদ্ধা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল হয়ে রয়েছে।
