Last Updated:

Netaji Subhas Chandra Bose: ১৯২৯ সালে বসিরহাট হাই স্কুল থেকে মার্টিন বার্ন ট্রেনে চেপে ধান্যকুড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। বদলেছে সময়, বিলুপ্ত হয়েছে সেই ন্যারোগেজ রেলপথ, তবে জেলার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আজও অমলিন নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত সেই ঐতিহাসিক যাত্রাপথ।

+

আজও

আজও স্বাধীনতা দিবসের আগে সেই আবেগ জেগে তাজা হয়ে ওঠে

বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: একটা সাধারণ রাস্তা হয়ে উঠেছিল ইতিহাস, কারণ সেই পথে হেঁটেছিলেন নেতাজি। ১৯২৯ সাল। কংগ্রেসের প্রাদেশিক সভাকে ঘিরে তখন সরগরম বসিরহাট। সভা শেষ হওয়ার পর বসিরহাট হাই স্কুল প্রাঙ্গণ থেকেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরবর্তী যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান স্কুল ভবনের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর কক্ষ এবং সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সেই সভা শেষে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক উন্মাদনা। জনতার স্লোগান আর উচ্ছ্বাসের মধ্যেই শুরু হয় নেতাজির যাত্রার প্রস্তুতি।

বসিরহাট হাই স্কুল থেকে ত্রিমোনী এলাকা পেরিয়ে নেতাজির যাত্রাপথ গিয়ে মিশেছিল তৎকালীন মার্টিন বার্ন রোডে। সেই সময় এই এলাকা ছিল মার্টিন বার্নের সংকীর্ণ গেজ রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। স্থানীয় কংগ্রেস কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, অনেকেই সেখানে উপস্থিত হয়ে নেতাজিকে বিদায় জানান। সেই মুহূর্তে পথের ধারে তৈরি হয়েছিল এক আবেগঘন পরিবেশ। এরপর ত্রিমোনী সংলগ্ন স্টেশন বা রেলপথ থেকে মার্টিন বার্ন রেলে চেপে ধান্যকুড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন নেতাজি। বসিরহাটের সঙ্গে ধান্যকুড়িয়া এবং আশপাশের গ্রামীণ জনপদকে যুক্ত করত এই রেলপথ। ধীরগতির সেই রেলগাড়ি এগিয়ে চলার সময় পথের দু’ধারে মানুষের ভিড় জমেছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে সেই যাত্রার স্মৃতি আজও জায়গা করে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার এত বছর পরেও জীবন্ত ব্রিটিশ জেলাশাসকের স্মৃতি, এখন কর্মীর অভাবে তালা ঝুলছে!

রেলপথের দু’পাশে ছিল গ্রাম, খাল-বিল আর বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। পথে একাধিক ছোট হল্ট ও জনপদে নেতাজিকে এক ঝলক দেখতে মানুষের ভিড় জমত। রেলপথটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম ছিল না, সেই সময় রাজনৈতিক ভাবনা ও জাতীয়তাবাদী চেতনা ছড়িয়ে পড়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। নেতাজির এই যাত্রা বসিরহাটের সঙ্গে ধান্যকুড়িয়ার রাজনৈতিক যোগাযোগকেও আরও গভীর করে।

আরও পড়ুন: চিকিৎসা-পুষ্টির সঙ্গে মিলবে অগাধ ভালবাসা, টিবি আক্রান্ত দুই রোগীকে ‘অ্যাডপ্ট’ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী

শেষপর্যন্ত সেই রেলযাত্রা গিয়ে পৌঁছয় ধান্যকুড়িয়ায়। তৎকালীন সময়ে ধান্যকুড়িয়া ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। রাজবাড়ি ও তার আশপাশের এলাকাকে ঘিরে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা এবং রাজনৈতিক আলোচনা চলত নিয়মিত। ফলে নেতাজির আগমন স্থানীয় মানুষের কাছে ছিল বিশেষ তাৎপর্যের। ধান্যকুড়িয়ায় পৌঁছে নেতাজি স্থানীয় নেতৃত্ব ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজবাড়ি-কেন্দ্রিক এলাকা এবং আশপাশের জনপদে স্বাধীনতার বার্তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। আজ সেই সংকীর্ণ গেজের রেলপথ আর নেই, বদলে গিয়েছে সময়, বদলে গিয়েছে পথের চেহারা। কিন্তু বসিরহাট থেকে ধান্যকুড়িয়া, নেতাজির সেই ঐতিহাসিক যাত্রাপথ এখনও বহন করে চলেছে স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *