ভয়ঙ্কর ঘটনা। স্ত্রী, শিশু-সহ সাতজনকে খুনের অভিযোগে ৫২ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হল। এরপর ১৫-২০ দিন ধরে কর্নাটকের বিভিন্ন জায়গায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মৃতদেহগুলি ফেলে বলে শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাব চালক এস.ইন্দুশেখর ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা। যাদের দাম্পত্য জীবন প্রায় দুই দশকের। ইন্দুশেখর তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের একটি অংশ, যা ১৬ অক্টোবর নাগাদ শুরু হয়েছিল। এই খুনের নেপথ্যে সম্ভবত একই শহরে অবস্থিত তাঁর মায়ের বাড়িতে সুনীতার ঘনঘন যাওয়াকে কেন্দ্র করেই। ইন্দুশেখরের বিরুদ্ধে সুনীতার মা রূপাবতী, সুনীতার ভাই শিবকুমার ও শঙ্কর, তাঁদের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাত বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

রাজাজিনগরের ভাষ্যম সার্কেলের কাছে একটি বাড়ির ছাদে অবস্থিত ইন্দুশেখরের ভাড়া নেওয়া এক কক্ষের বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এই অপরাধে ইন্দুশেখরের ১৭ বছর বয়সী মেয়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলসের কাছ থেকে পুনীতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে। বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং বলেন, “তিনি এমন একটি বয়ান দিয়েছেন যে, তিনি তাঁদের একে একে ডেকে এনে খুন করেছেন এবং মৃতদেহগুলি সরিয়ে ফেলেছেন… আমরা বিষয়টি যাচাই করছি… অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও ছয়টি মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

ইন্দুশেখর ‘তানা ভারাদারি’ (Taana Varadari) নামে একটি কন্নড়-ইংরেজি মাসিক ট্যাবলয়েড প্রকাশ করতেন এবং একটি স্থানীয় ইউটিউব নিউজ চ্যানেল চালাতেন। ট্যাবলয়েডটির ২০২৬ সালের অগাস্ট সংখ্যায় তাঁকে এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা… তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অপমানিত হয়েছিলেন। নিশ্চিতভাবেই কোনও বিকৃত মানসিকতার মানুষই এই কাজ করেছে। সে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মৃতদেহগুলি কোথায় রাখা আছে, তা জানিয়েছে।”

পুলিশের সন্দেহ, ইন্দশেখর হামলার জন্য শিল-নোড়া ব্যবহার করেছিলেন এবং মৃতদেহগুলি সরিয়ে ফেলার জন্য একটি গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন। উভয়ই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নলিনীর মায়ের দায়ের করা নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ ইন্দুশেখরের উপর নজর দেয়। এই অভিযোগটি শ্রীরামপুরা থানায় দায়ের করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গিয়েছে যে, সুনীতার তাঁর বাপের বাড়িতে যাওয়া এবং নিজের মা ও ভাইদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রায়শই মতবিরোধ হওয়ার ফলে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed