Last Updated:

East Medinipur News: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মেদিনীপুরের তমলুক রাজবাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এই রাজবাড়ি।

+

News18

News18

তমলুক, সৈকত শী: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত বা তমলুক রাজবাড়ী এক উজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক নাম। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এই রাজবাড়ি। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রানি কৃষ্ণপ্রিয়া ব্রিটিশদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এই রাজবাড়ির অন্দরেই ব্রিটিশ-বিরোধী শক্তির প্রথম ভিত প্রস্তুত করেন। এরপর বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তৎকালীন রাজা সুরেন্দ্র নারায়ণ রায়। তাঁর সভাপতিত্বেই অনুষ্ঠিত হয় অবিভক্ত তমলুক মহাকুমার প্রথম বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী সভা, যা সমগ্র অঞ্চলে দেশপ্রেমের জোয়ার এনেছিল।

১৯৩০ সালের আইন অমান্য ও লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনেও এই রাজবাড়ি ছিল স্বদেশীদের মূল ভরসাস্থল। রাজা সুরেন্দ্র নারায়ণ রায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে রাজবাড়ির একাংশ আন্দোলনকারীদের শিবিরের জন্য ছেড়ে দেন। এই শিবির থেকেই সতীশ চন্দ্র সামন্ত ও সুশীল কুমার ধাড়া সত্যাগ্রহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। আন্দোলনকে আশ্রয়ের মাশুল হিসেবে রাজাকে গ্রেফতার করা হয়। রাজপুত্র ধীরেন্দ্র নারায়ণ রায় ও হরেন্দ্র নারায়ণ রায় কারাদণ্ড ও নির্বাসন ভোগ করেও আত্মগোপন অবস্থায় বিপ্লবীদের সাহায্য চালিয়ে যান।

আরও পড়ুন-‘আজ আমি আমার পৃথিবী হারিয়ে ফেললাম’, কাকে হারালেন অঙ্কুশ? পরিবারে নেমে এল শোকের ছায়া

১৯৩৮ সালের ১১ই এপ্রিল কংগ্রেস সভাপতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তমলুকে সভা করতে এলে এক অনন্য নজির গড়ে তমলুক রাজপরিবার। শহরে জনসভার জন্য উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে জাতীয় কংগ্রেস নেতারা বৃদ্ধ রাজা সুরেন্দ্র নারায়ণ রায়ের শরণাপন্ন হন। দেশাত্মবোধের টানে বৃদ্ধ রাজা বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে রাজবাড়ির অন্দরে ‘খোসরঙের মাঠের’ নিজস্ব ফলন্ত আমবাগান কেটে নেতাজির সভার ব্যবস্থা করে দেন। সেই ঐতিহাসিক সভা থেকে নেতাজির উদ্দীপনামূলক বক্তব্য সমগ্র আন্দোলনকে নতুন দিকনির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন-ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে শ্যুটের পরই…, ফাঁকা ঘরে কী করেছিলেন আমির? মানসিক চাপে যা হয়েছিল নায়িকার, এত বছর পর সব ফাঁস

১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে রাজপরিবারের তরুণ সন্তান কুমারেন্দ্র নারায়ণ রায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটি ‘রক্ষিত বাড়ি’ পুলিশের নজরদারিতে পড়লে বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন সমিতি’-র কার্যকলাপও কৌশলগতভাবে এই রাজবাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ‘৪২-এর গণআন্দোলন—প্রতিটি ধাপে তমলুক রাজবাড়ি কেবল নীরব সাক্ষী ছিল না, বরং ব্রিটিশদের শৃঙ্খল ভাঙার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ইতিহাসে নিজের স্থান অমর করে রেখেছে।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed