নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন তিনি। বারংবার তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে মাঠে নেমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। চলতি রঞ্জি মরশুমেও তিনি বেশ ভাল পারফর্ম করছেন। এরপরে অনেকেই মনে করেছিলেন শামিকে হয়তো নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজ়ে ভারতীয় দলে ডাকা হবে। তবে সেখানেও সুযোগ পাননি শামি। ফলে ৬ নভেম্বর, নিজের টেস্ট অভিষেকের ১৩তম বর্ষপূর্তির দিনই টেস্ট থেকে অবসর ঘোষণা করেন শামি। 

শামি অবসর নেওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারতীয় দলে তাঁর প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri)। তাঁর দাবি, ‘শামি নিজের কেরিয়ারে আরও বেশ কয়েকটি উইকেট নিতে পারতেন এবং আরেকটি সুযোগ তারকা ফাস্ট বোলারের প্রাপ্য ছিল। ভারত-নিউজ়িল্যান্ডের দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচের আগে Extra Innings নামক শোয়ে রবি শাস্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, দেশের হয়ে যে এত ভাল পারফর্ম করেছে, তাকে সরে দাঁড়াতে দেখাটা বেশ দুঃখজনক। আমি নিশ্চিত ও আরও ৩০ থেকে ৪০টি উইকেট তো নিতেই পারত। গত ১২ মাসে ওকে খেলানো উচিত ছিল এবং টেস্ট ম্যাচেও ওর সুযোগ প্রাপ্য ছিল।’

গোড়ালির চোট নিয়েই ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ খেলে সকলকে নিজের পারফরম্যান্সে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন শামি। তারপর তাঁর অস্ত্রোপচার সেরে জাতীয় দলে ফিরতে ফিরতে ২০২৫ সাল লেগে যায়। কিন্তু তারপরেও শামির ফের চোট লাগে এবং বারংবার তৎকালীন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর দাবি করে আসেন যে শামির ফিটনেস এবং ওয়ার্কলোড দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয় এবং মেডিক্যাল দল তাঁকে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ়ে সুযোগ দেওয়ার বিপক্ষে।

আরও পড়ুন:- কেরিয়ারের পরবর্তী ধাপ! অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব পেল বৈভব সূর্যবংশী, কোন টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব দেবে? 

তবে রবি শাস্ত্রী শামির ফিটনেস নিয়ে এই দাবি মানতে নারাজ। তিনি ম্যাচ ফিটনেস থেকে জিম ফিটনেসকে প্রাধান্য দেওয়ার মানে বুঝতে পারছেন না বলেই দাবি করেন। প্রাক্তন ভারতীয় কোচ বলেন, ‘জিমে ফিট হয়ে লাভ কি যদি তুমি ম্যাচে ১০ থেকে ১২ ওভার বলই করতে না পার? ও নিরন্তরভাবে বোলিং করে গিয়েছে। তাই ও সুযোগ না পাওয়ায় আমি হতাশ।’

বাংলার হয়ে শামির পারফরম্যান্সের দিকে ইঙ্গিত করে শাস্ত্রী আরও একরাশ ক্ষোভ উগরে দাবি করেন, ‘আমি ওই সব রিপোর্টগুলো দেখেছি যেখানে ওর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু ও তো বাংলার হয়ে প্রতিটি ম্য়াচই খেলছিল। ১৫ থেকে ২০ ওভার বলও করছিল। একজন খেলোয়া়ড়ের থেকে নিজেকে ফিট প্রমাণ করার জন্য এর থেকে বেশি আর কী চাও?’

শামি এবারের ঘরোয়া মরশুমেও দলীপ ট্রফিতে খেতাবজয়ী পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছেন। চলতি রঞ্জি মরশুমেও তিন ম্যাচে ১৪-র গড়ে ১৪টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তিনি দিল্লির বিরুদ্ধে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত মহারাষ্ট্র ম্য়াচেও প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেন। তবে তা সত্ত্বেও জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য না খোলায় টেস্ট ক্রিকেটকে আলবিদা জানালেন তিনি।

তবে সামনের বছরে বিশ্বকাপ খেলার আশা এখনও তাঁর বুক টিম টিম করে জ্বলছে। সেই জন্যই সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে তিনি কিন্তু অবসর নেননি। গত বিশ্বকাপের সেরা বোলারকে আরেকবার দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলিং সহায়ক পিচের জন্য নির্বাচকরা ভরসা করেন কি না, সেই দিকে কিন্তু সকলেরই নজর থাকবে।  

 



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *