নয়াদিল্লি: ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে পারেননি। জোট নিয়েও এগোয়নি কথাবার্তা। এবার ইজ়রায়েলের সরকার গড়ার দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়লেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কারণ ইজ়রায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ়্যাক হারজ়োগ বিরোধী শিবিরের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী গাদি আইজ়েনকোটকে সরকার গড়তে আহ্বান জানিয়েছেন। (Eisenkot vs Netanyahu)

শনিবার রাতে বিবৃতি দেন ইজ়রায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজ়োগ। তিনি জানান, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে আইজ়েনকোটকে প্রথম জোট সরকার গড়ার সুযোগ দিচ্ছেন তিনি। ইজ়রায়েলি সেনার প্রাক্তন প্রধান আইজ়েনকোট নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবারের নির্বাচনে অংশ নেন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে মরিয়া লড়াই করেন তিনি। (Israel Next Prime Minister)

ইজ়রায়েলের নির্বাচনে এবারে কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। সেই থেকেই জোট সরকারের সম্ভাবনা জোরাল হচ্ছিল। গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন সব পক্ষ। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাজনৈতিক দলগুলির অধিকাংশই আইজ়েনকোটের নেতৃত্বে নতুন জোট সরকার গড়ার পক্ষে সুপারিশ করেছেন। 

আরও পড়ুন: TATA গোষ্ঠীর মাথা থেকে নোয়েল টাটাকে সরানোর আবেদন, হাইকোর্টে পিটিশন

গত ২৭ অক্টোবর ইজ়রায়েল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়, যাতে ১২০ সদস্যের সংসদে দুই রাজনৈতিক দলের কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ম্যাজিক সংখ্যা ৬১ ছুঁতে পারেনি কোনও পক্ষই। নেতানিয়াহুর দল Likud যেখানে ২৭টি আসনে জয়ী হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট সবমিলিয়ে ৫৩টি আসন পেয়েছে। আইজ়েনকোটের দল Yashar Party জয়ী হয়েছে ২১টি আসনে। আরও চারটি ইহুদি দলের প্রাপ্ত ভোটের নিরিখি তাদের জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। ইজ়রায়েলের দুই সংখ্যালঘু Arab Parties ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে তারা কিংমেকারের ভূমিকায়।

আইজ়েনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপতির কাছে সওয়াল করেছেন ৬৭ জন সাংসদ। ৪৬ জন নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করেছেন। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শরিক, United Torah Judaism Party কোনও পক্ষের নামই সুপারিশ করেনি। দু’জনের কাউকেই পছন্দ নয় বলে জানিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে আরও একটি বিষয় নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ইজ়রায়েলের রাজনীতিতে। জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ছিক আগে আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন নেতানিয়াহু। দেশের গুপ্তর সংস্থা Mossad-এর প্রধান রোমান গফম্যানও তাঁকে সমর্থন করছিলেন। কিন্তু খুব পৌঁছতেই সেই প্রচেষ্টা আটকে দেয় আমেরিকা।

আরও পড়ুন: শুধু PoK নয়, চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালি পুনর্দখলের ডাক দিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে, বিঁধলেন নেহরুকে

এতে নতুন করে সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হচ্ছে নেতানিয়াহুকে। জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে আহ্বান জানালে, তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেন ইজ়রায়েলি সংসদের সদস্য এমকে আহমেদ তিবি। তিনি বলেন, “ইজ়রায়েল রাষ্ট্র এবং গোটা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অনিষ্টকারী আপনি। আপনি সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় সমর্থক।” অন্য দিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ইয়ের গোলান লেখেন, ‘সময় শেষ বুঝতে পেরেছেন নেতানিয়াহু। বুঝতে পারছেন পরিবর্তনের সরকার গঠিত হতে চলেছে। তাই আতঙ্কিত তিনি। বছরের পর মানুষকে উস্কানি দিয়ে এসেছেন তিনি। বিভাজন সৃষ্টি করেছেন। একজনকে অন্যের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়েছেন। জোটের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিপদ বুঝে এখন ঐক্যের কথা মনে পড়ছে তাঁর। নেতানিয়াহু শুধুমাত্র ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেব। দায়িত্বশীল সরকারের প্রয়োজন ইজ়রায়েলের’।

ফলে এই মুহর্তে সব দিক থেকেই আইজ়েনকোটের পাল্লা ভারী বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে জোট সরকার গঠনের জব্য চারটি শর্ত পেশ করেছেন তিনি—

  • ইহুদি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি প্রদান।
  • ইজ়রায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে যে নীতিগুলি রয়েছে, তা মেনে নেওয়া।
  • ইজ়রায়েলি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রত্যেক নাগরিককে বাধ্যতামূলক ভাবে সামরিক এবং বেসামরিক সেবায় যুক্ত হতে হবে।
  • প্যালেস্তাইনের হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আখ্যা দিতে হবে এবং তাদের সামরিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

সব পক্ষ এই শর্তগুলি মেনে নেয় কি না, তা সময়ই বলবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *