সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্স। বলা হয়, ক্রিকেটের নন্দনকানন। সেই মাঠে আড়াই বছর পর লজ্জায় ডুবল বাংলার ক্রিকেট।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। রঞ্জি ট্রফিতে শেষবার এই মাঠে হেরেছিল বাংলা। মুম্বইয়ের কাছে, ইনিংস ও ৪ রানে। বোনাস পয়েন্ট সহ জিতেছিলেন শিবম দুবেরা। ২০২৬ সালের নভেম্বরে ফের বাংলার বিপর্যয় ইডেন গার্ডেন্সে। এবার মহারাষ্ট্রের কাছে। বোনাস সহ সাত পয়েন্ট পেলেন পৃথ্বী শ-রা। ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতলেন। কাকতালীয় হলেও, ২০২৪ সালে মুম্বইয়ের হয়ে ইনিংস ওপেন করেছিলেন পৃথ্বী। এখন তিনি মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক। আড়াই বছরের ব্যবধানে ইডেনে বাংলার দুই পরাজয়ের সাক্ষী।

রঞ্জি ট্রফিতে পাঁচ মরশুম পর টানা তিন ম্যাচ জিতে অভিযান শুরু করেছিল বাংলা। ৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ইডেনে নেমেছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। চতুর্থ ম্যাচে বাংলার জয়ের অশ্বমেধকে হ্যাঁচকা টানে মাটিতে আছড়ে ফেলল মহারাষ্ট্র। ৪ ম্যাচে ১৯ পয়েন্টে পৌঁছে গেল মহারাষ্ট্র। সেই সঙ্গে রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ সি-তে শীর্ষে উঠে এল মহারাষ্ট্র। বাংলা নেমে গেল দুইয়ে।

ইডেনে ম্যাচের শেষ দিন বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১৮৬ রানে। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে লড়াই করলেন একমাত্র অভিষেক পোড়েল ও সুমন্ত গুপ্ত। দুজনই হাফসেঞ্চুরি করলেন। কিন্তু দলের চার ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে ০ করে ফেরায় তাঁদের লড়াইও আঁধারে ঢাকা পড়ল।

ম্যাচ জেতার জন্য মহারাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল ১১২ রান। কোনও উইকেট না হারিয়ে লক্ষ্যপূরণ মহারাষ্ট্রের। চাপ কাটানোর জন্য সচিন ধাসকে ওপেন করতে নামিয়েছিল মহারাষ্ট্র। যাতে ঝোড়ো ব্যাটিং করে দলকে চাপমুক্ত করে দেন। সেই ধাস ৪৩ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। প্রথম ইনিংসে পৃথ্বী শ-র অফস্টাম্প ছিটকে দিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। সেই পৃথ্বী দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। শাহবাজ আমেদকে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারলেন। বল গিয়ে পড়ল সোজা সাইটস্ক্রিনে।

বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস যখন শেষ হল, ৬৫ ওভার খেলা বাকি ছিল। ৬৫ ওভারে ১১২ তুলে জিততে হতো মহারাষ্ট্রকে। ১৯.৪ ওভারে সেই রান তুলে নিল মহারাষ্ট্র। ৫০ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস পৃথ্বীর। ৬৮ বলে ৬১ রান করে অপরাজিত রইলেন ধাস। আগের ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া প্রদীপ্ত এই ম্যাচে উইকেট শূন্য। ব্যাটারদের কথা যত কম লেখা যায়, ততই ভাল। এবারের রঞ্জি ট্রফিতে চার ম্যাচের সাত ইনিংসে পাঁচবার দুশোও স্পর্শ করতে পারল না বাংলা। কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লদের সামনে এবার ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *