নয়াদিল্লি: দিল্লির স্কুলে বেঘোরে মৃত্যু এক শিশুর। খেলার পিরিয়ডের পর ক্লাসরুমে ফিরেছিল। সেখানেই হঠাৎই মেঝেতে পড়ে যায় তার অবসন্ন শরীর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায় একরত্তির শরীর থেকে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। (Girl Collapses in School)

দিল্লির ময়ূর বিহার ফেজ় ২-র Lovely Heritage School-এর ঘটনা। বুধবার সেখানে ক্লাসরুমের ভিতর মৃত্যু হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর। সিসিটিভি ফুটেজে গোটা দৃশ্য ধরা পড়েছে, যা সামনে দেখে স্তম্ভিত অভিভাবকরা। (Girl Dies in School)

সিসিটিভি ফুটেজে মেয়েটিকে ক্লাসরুমে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছিল একরত্তি মেয়েটি। হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। মেঝেতে আছাড় খায় তার মুখ। 

আরও পড়ুন: ‘সকাল সকাল গা থেকে মদের গন্ধ বেরোয়’, এবার ধারাল আক্রমণে রাহুল গাঁধী, পাল্টা আম আদমি পার্টি

সহপাঠীকে পড়ে যেতে দেখে অন্য পড়ুয়ারা এগিয়ে আসে। ছুটে আসেন শিক্ষিকাও। মেয়েটিকে পাঁজকোলা করে তুলে নেন তিনি। মুখে জল ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও সাড়া দেয়নি মেয়েটি। সেই অবস্থায় সাহায্য় চাইতে ছুটে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় ওই শিক্ষিকাকে।

এর পর, স্কুলের কর্মীরা নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। কিন্তু ওই হাসপাতাল মেয়েটিকে ভর্তি নেয়নি। শেষ পর্যন্ত নির্মাণ বিহারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মেয়েটিকে। কিন্তু সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

আরও পড়ুন: ‘মেয়ে তৈরি হয়ে গিয়েছে, আপনি বিশ্রাম নিন’, শরদ পওয়ারকে ফোন নরেন্দ্র মোদির

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ৯টা বেজে ৫২ মিনিটে ফোন আসে তাদের কাছে। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে মেয়েটি। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তার মৃত্য়ুর আসল কারণ বোঝা যাবে। 

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, হৃদরোগেই আক্রান্ত হয় মেয়েটি। যদিও মেয়েটির পরিবারের দাবি, ঠিক সময়ে চিকিৎসা হয়নি। স্কুলেই যদি ফার্স্ট এইড এবং CPR দেওয়া হতো, তাহলে হয়ত প্রাণে বেঁচে যেত মেয়েটি। মেয়েটির বাবা বিকাশ ভারতী মৌলানা আজাদ হাসপাতালে গাড়ি চালান। তিনি জানিয়েছেন, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মতো ভাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেঁচে যেতে পারত তাঁর মেয়ে। বিকেশের দাবি, তাঁর মেয়ে বরাবরই চঞ্চল। খেলাধুলো করতে ভালবাসে। সকালে উঠে ব্য়ায়ামও করত। কখনও কোনওো অসুস্থতা ছিল না।

যদিও স্কুলের অধ্যক্ষা ভাবনা মালিক অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে হলেই মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিক্ষিকারাও গিয়েছিলেন সেখানে। সকলেই সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, খেলার পিরিয়ড শেষ হতে সকলেই ক্লাসরুমে ফিরে আসে। ক্লাস চলাকালীন হঠাৎই উঠে দাঁড়া মেয়েটি। এর পর পড়ে যায় মেঝেতে। তার পর আর নড়াচড়া করেনি। 



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *