Last Updated:

ভারতে এখনও বহু মহিলা টু-হুইলারে বসার সময় তাঁদের দু’টি পা একদিকে রাখেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের বসার রীতি বেশি দেখা যায়। এই প্রথার পিছনে সামাজিক বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং পোশাকের ধরন-সহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। মহিলারা কেন দু’চাকার গাড়িতে এইভাবে বসেন, এবার জেনে নেওয়া যাক তার কারণ।

মহিলারা অনেকেই বাইকে বসার সময় দু’টি পা একদিকে রাখেন কেন? (Representative/AI Image)
মহিলারা অনেকেই বাইকে বসার সময় দু’টি পা একদিকে রাখেন কেন? (Representative/AI Image)

GK: ভারতে মোটরসাইকেল ও স্কুটারে মহিলাদের একদিকে দু’টি পা রেখে বসতে দেখা খুবই পরিচিত একটি দৃশ্য। বিশেষ করে ট্রেডিশনাল পোশাক পরে যাতায়াতের সময় এই ধরনের দৃশ্য বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু গাড়ির দু’দিকে পা দিয়ে বসার পরিবর্তে কিছু মহিলা কেন দু’টি পা একদিকে রেখে বসেন? এই প্রথার পিছনে পোশাকের ধরন, সামাজিক রীতিনীতি এবং প্রকাশ্যে মহিলাদের কীভাবে বসা উচিত, সে সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে এইভাবে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রত্যেক মহিলার ক্ষেত্রে একই কারণ প্রযোজ্য নয়।

বিষয়টি বাইরে থেকে দেখলে নিছক একটি প্রথা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু সামাজিক বিশ্বাস। মোটরসাইকেলে দু’টি পা একদিকে রেখে বসা মহিলারা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ভারতে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা লেহেঙ্গার মতো পোশাক পরার কারণে অনেক সময় মোটরসাইকেলের দু’দিকে পা দিয়ে বসা কঠিন ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, শাড়ির আঁচল কিংবা অন্য পোশাক মোটরসাইকেলের কোনও অংশে আটকে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এর পাশাপাশি, বিশেষ করে পরিবারের বয়স্কদের সামনে মহিলাদের মোটরসাইকেলের দু’দিকে পা দিয়ে বসাকে সামাজিকভাবে ‘অনুচিত’ কিংবা ‘অশালীন’ বলে মনে করা হয়। তবে বাস্তবে মোটরসাইকেলে দু’টি পা একদিকে রেখে বসা আরও বেশি বিপজ্জনক।

এই বিষয়ে বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের কনটেন্ট ক্রিয়েটর জেনিথ ইরফান (Zenith Irfan)। মোটরসাইকেলে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করা প্রথম মহিলা তিনি। নিজের একটি ভিডিওতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে, মহিলারা বাইকের পিছনে বসার সময় কেন দু’টি পা একদিকে রাখেন, তা ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। জেনিথের দাবি, মোটরসাইকেলে দু’টি পা একদিকে রেখে বসার এই রীতি পাকিস্তানি সংস্কৃতির অংশ নয়। বরং ব্রিটিশ সংস্কৃতি থেকেই এই প্রথার সূত্রপাত।

Photo: Instagram

Photo: Instagram

জেনিথের (Zenith Irfan) কথায়, এই প্রবণতার সূচনা হয়েছিল আনুমানিক ১৪ বা ১৫ শতকে। সেই সময় বোহেমিয়ার রাজকুমারী অ্যান (Anne of Bohemia) ঘোড়ায় চড়ার সময় দু’টি পা একদিকে রেখে বসতেন। এই পদ্ধতিতেই তিনি ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। আসলে সেই সময় মহিলাদের পুরুষদের মতো ঘোড়ার দু’দিকে পা দিয়ে বসাকে আপত্তিকর কিংবা অশালীন বলে মনে করা হত।

জেনিথের মতে, এই প্রথা দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিরও অংশ নয়। উদাহরণ হিসেবে ভারতীয় বীরাঙ্গনা রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের কথা উল্লেখ করে জেনিথ মনে করিয়ে দেন, তিনি অত্যন্ত সাহসী এক যোদ্ধা ছিলেন। ঘোড়ায় চড়ার সময় দু’দিকে পা দিয়ে বসেই তিনি একাধিক যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। জেনিথের দাবি, ভারতে ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয়রা তাঁদের সংস্কৃতি গ্রহণ করতে শুরু করেন।

মোটরসাইকেল আসার পর মহিলারাও তাতে দু’টি পা একদিকে রেখে বসতে শুরু করেন। আসলে এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ নয়। বরং ব্রিটিশরা ভারতে আসার পর ভারত ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলি তাদের সংস্কৃতি গ্রহণ করেছিল।

(Disclaimer: প্রতিবেদনের লেখা তথ্য News18 বাংলার নিজস্ব মত নয় ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইনফ্লুয়েন্সারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই খবর লেখা হয়েছে৷)



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *