দিল্লি : প্রস্তুতি নিয়েছিলেন UPSC পরীক্ষার জন্য। সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এমনকী টেলিভিশনের জনপ্রিয় কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’- তেও অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সাফল্য আসেনি কোথাও থেকেই। ব্যর্থ জীবনে তাই চুরিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সতীশ কুমার কৃষ্ণপ্রসাদ কেশরী। মুম্বইয়ের একটি গয়নার দোকান থেকে চুরি করেছিলেন সোনার হার। প্রায় ১ বছর খোঁজার পর অবশেষে সতীশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সতীশকে। দিল্লির উত্তম নগরের বাসিন্দা এই ব্যক্তি। দু’চোখে প্রচুর বড় বড় স্বপ্ন নিয়ে দিল্লি এসেছিলেন সতীশ। শুরুর দিকে চেষ্টাও করেছিলেন অনেক। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। জোটেনি একটাও চাকরি। একটা সময়ের পর দৈনন্দিন জীবনে শুরু হয় মারাত্মক লড়াই। বাড়তে থাকে ঋণের বোঝা। অর্থাভাবেই চুরির পথ বেছে নেন সতীশ। 

৪২ বছরের সতীশ আদতে বিহারের বাসিন্দা। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। স্নাতক পাশ করার পর আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ইউপিএসসি- র প্রস্তুতি শুরু করে দেন সতীশ। সঙ্গে সঙ্গে পার্ট-টাইম একটা চাকরিও করতেন। কিন্তু কোনও চেষ্টাই তাঁর জীবনে সাফল্য আনতে পারছিল না। এদিকে দিনে দিনে বাড়ছে টাকার চাহিদা। ভাগ্য পরীক্ষা করতে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’- তে যোগ দেন তিনি। ইচ্ছে ছিল নগদ টাকা জিতে নেওয়ার। কিন্তু সেখানেও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের রাউন্ড যা ‘ফাস্টেস্ট ফিঙ্গার ফাস্ট’ বলে পরিচিত, সেখান থেকেই ছিটকে যান সতীশ। অমিতাভ বচ্চনের সামনে হট সিটে বসার স্বপ্ন ওখানেই থেমে যায় তাঁর। 

গাড়ির ভিতর থেকে আচমকাই এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ল আততায়ী, বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু ৬ জনের, আহত ১৫ জন 

এরপর সতীশ ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেলসের ব্যবসা শুরু করেন স্ত্রী’র সঙ্গে। ব্যবসার খাতিরেই ৪-৫টি গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল ওলা, উবের এই সমস্ত অ্যাপ ক্যাবে গাড়ি ভাড়ায় খাটাবেন। তবে এই ব্যবসাতেও সাফল্য আসেনি সতীশের জীবনে। অনেক চেষ্টার পরেও পেয়েছেন শুধুই ব্যর্থতা। এদিকে মাথায় তখন পাহাড় প্রমাণ ঋণের বোঝা। দেনার দায় মেটাতে শেষ পর্যন্ত চুরি করার সিদ্ধান্ত নেনে সতীশ। পরিকল্পনা ছেলে গ্রাহক সেজে দোকানে গিয়ে গয়না নিয়ে পালিয়ে যাবেন। গত বছর (২০২৫) ১৫ নভেম্বর প্ল্যান মতোই কাজ করেন সতীশ। ৪৩.২ গ্রামের একটি সোনার চেন হাতিয়ে নেন তিনি। মুম্বইয়ের কান্দিভালি পশ্চিম এলাকার মাথুরদাস রোডে অবস্থিত পদ্মাবতী জুয়েলার্স থেকে এই গয়না চুরি করেছিলেন সতীশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গয়নার দাম প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। 

পুলিশের চোখে ধুলো দিতেও হাজার পরিকল্পনা করেছিলেন সতীশ। বানিয়েছিলেন ভুয়ো আধার কার্ড। মুম্বইয়ের একটি হস্টেলে ভুয়ো পরিচয় নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। ফোন বন্ধ করে রেখেছিলেন প্রায় ১ বছর। তবে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে সতীশের ফোন নম্বর ট্র্যাক করে সতীশের খোঁজ পেয়ে যায় পুলিশ। এবছর ২৮ অক্টোবর সতীশকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া চেন। আপাতত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন সতীশ। পুলিশের দাবি জেরায় সতীশ জানিয়েছেন যে, মুম্বইয়ে আরও একটি জায়গায় চুরি করেছিলেন তিনি। 



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *