ট্রেনে মদ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে কি?

রেলের এমন কোনও একক দেশব্যাপী নিয়ম নেই, যা যাত্রীদের কোনও বাধা ছাড়াই মদ বহন করার অধিকার দেয়। এটি বৈধ কি না, তা মূলত যাত্রার সঙ্গে জড়িত রাজ্যগুলির আবগারি আইনের উপর নির্ভর করে। যে রাজ্যগুলিতে মদ অনুমোদিত, সেখানে সাধারণত রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিমাণে মদ বহন করা যেতে পারে। এর অর্থ, যাত্রীরা এমনটা ধরে নেবেন না যে যাত্রা শুরুর জায়গায় যদি মদ আইনত কেনা হয়ে থাকে, তাহলে পুরো যাত্রাপথে সেটি বহন করাও অটোমেটিকভাবে বৈধ থাকবে।

কতগুলি বোতল নিয়ে যেতে পারেন?

যে রাজ্যগুলিতে মদ নিষিদ্ধ নয়, সেখানে স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে যাত্রীদের সাধারণত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ থেকে ২ লিটার অথবা দুটি সিল করা বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি থাকতে পারে। বোতলগুলি সম্পূর্ণভাবে সিল করা থাকতে হবে এবং যাত্রীর মূল মালপত্রের মধ্যে সঠিকভাবে প্যাক করা থাকতে হবে। খোলা বোতল নিয়ে গেলে আইনি সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

যাত্রীদের মদ কেনার আসল বিল অথবা রসিদও সঙ্গে রাখা উচিত। রেল, পুলিশ অথবা আবগারি দফতরের আধিকারিকরা যদি মালপত্র পরীক্ষা করেন, তাহলে এর মাধ্যমে প্রমাণ করা সহজ হতে পারে যে মদটি আইনত কেনা হয়েছিল।

যদিও ভারতীয় ট্রেনে মদ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া পরামর্শযোগ্য নয়, তবুও যারা মদ নিয়ে ট্রাভেল করার সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। সাধারণত বোতলটি সিল করা থাকতে হবে, তা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হতে হবে এবং বিক্রি বা বিতরণের উদ্দেশ্যে বহন করা যাবে না।

সারা দেশে মদ বহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও পরিমাণগত সীমা নেই। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা একই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় দুই লিটারের একটি অনানুষ্ঠানিক সীমার (Informal Limit) কথা প্রায়ই উল্লেখ করেন। এই পরিমাণের বেশি হলে, বোতলটি খোলা থাকলে কিংবা মদ কেনার রসিদ না থাকলে, জরিমানা বা মদ বাজেয়াপ্তের মুখে পড়তে পারেন। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হল একেবারেই মদ সঙ্গে না নেওয়া, বিশেষ করে আন্তঃরাজ্য (Interstate) যাত্রার ক্ষেত্রে।

‘ড্রাই’ রাজ্যে কী হয়?

যখন কোনও ট্রেন এমন কোনও রাজ্য বা এলাকার মধ্য দিয়ে যায়, যেখানে মদ নিষিদ্ধ, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিহার, গুজরাত এবং নাগাল্যান্ডের মতো ড্রাই স্টেট এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে মদ রাখা এবং আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আইন কার্যকর রয়েছে। এই কারণে অন্য কোথাও আইনত কেনা সিল করা বোতলও নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার পর আইনি সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিহারে মদ নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এর আওতায় মদ রাখা, আনা-নেওয়া এবং খাওয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই কারণে যাত্রীদের এমনটা ভাবা উচিত নয় যে শুধু সড়কপথের পরিবর্তে ট্রেনে যাতায়াত করছেন বলেই সিল করা বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।

সমস্তিপুরে হওয়া বাজেয়াপ্তর ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে ট্রেনে বিপুল পরিমাণ মদ নিয়ে গেলে কড়া তল্লাশি হতে পারে।

ট্রেনের ভিতরে মদ পান করার বিষয়ে কী নিয়ম?

আইন অনুযায়ী অনুমোদিত মদ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া এবং ট্রেনের ভিতরে সেটি খাওয়া—এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ট্রেনের ভিতরে অথবা রেলওয়ে চত্বরে মদের বোতল খোলা কিংবা মদ পান করা রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ১৪৫ নম্বর ধারার অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে তখন, যখন কোনও ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় থাকেন এবং সমস্যা তৈরি করেন।

এই ধরনের আচরণের জন্য শাস্তি হতে পারে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এর মধ্যে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানাও থাকতে পারে। এই কারণে প্রযোজ্য আবগারি নিয়ম অনুযায়ী সিল করা মদ সঙ্গে রাখার অনুমতি থাকলেও যাত্রীদের এমনটা ভাবা উচিত নয় যে তাঁরা কোচের ভিতরে বোতল খুলে মদ খেতে পারবেন।



Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *