টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন ভারতের তারকা পেস বোলার মহম্মদ শামি। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে এদিন তিনি লেখেন, “আমি সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলিকে কখনোই বিদায় জানাব না। যখন প্রথমবার ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন আমার একটাই স্বপ্ন ছিল-দেশের জন্য কিছু করা। সেই সময় থেকে প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি লড়াই, প্রতিটি চোট এবং প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে।”
তাঁর সংযোজন, “টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি ফরম্যাট ছিল না, এটি আমার জীবনের এক অত্যন্ত বিশেষ অংশ। আজ, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি নিয়ে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে আমার অবসর ঘোষণা করছি। প্রত্যেক সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং সেই লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, যাঁরা এই যাত্রাপথে আমাকে সমর্থন করেছেন এবং ভাল-মন্দ উভয় সময়েই আমার উপর আস্থা রেখেছেন। আমার প্রতিভার উপর আস্থা রাখার জন্য, আমাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং আমার ক্রিকেট যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিসিসিআই (BCCI) ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন ও বিশ্বাস আমার কাছে সবসময়ই বিশেষ হয়ে থাকবে। মাঠে আমার শেষ টেস্ট বলটি করা হয়ে গেলেও, ভারতের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।”
৩৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় সর্বশেষ ২০২৩ সালে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। বাংলার এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রঞ্জি ট্রফিতে নিজের রাজ্যের হয়ে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন, কিন্তু নির্বাচকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা এখন আর তাঁকে বিবেচনায় নিচ্ছেন না।
রঞ্জি মরশুমে তিনি তিনটি ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিনটি ম্যাচে তিনি সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন। ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ২২৯টি উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে শামি তাঁর কেরিয়ারে ইতি টানছেন।
২০১৩ সালে ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের মাধ্যমে শামি এক অবিস্মরণীয় সূচনা করেছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি মোট নয়টি উইকেট নিয়েছিলেন। নিজের কেরিয়ারে তিনি ছয়বার ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছেন, যার মধ্যে ২০১৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬টি উইকেট নেওয়া (৬/৫৬) ছিল তাঁর সেরা বোলিং নৈপুণ্য।
