নয়াদিল্লি: ভোটচুরি নিয়ে একজোট বিরোধীরা। কিন্তু বিরোধীরা সকলেই কি ঐক্যবদ্ধ? কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির মধ্যে দূরত্ব নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। সরাসরি পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মানকে আক্রমণ করলেন রাহুল গাঁধী। পাল্টা আবার তাঁকে বিঁধেছে AAP. (Rahul Gandhi on Bhagwant Mann)
বুধবার পঞ্জাবের সাংরুরে কংগ্রেসের ‘ইনসাফ ব়্যালি’ ছিল। সেখানে বক্তৃতা করতে গিয়ে ভগবন্তকে নিশানা করেন রাহুল। লোকসভায় ভগবন্তের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “লোকসভায় ওঁর সঙ্গে ছিলাম। আমাদের সঙ্গেই বসতেন উনি, ঠিক আমাদের পাশে, আমাদের মধ্যে। সকাল ১১টার সময়ই ওঁর নিঃশ্বাসে মদের গন্ধ বের হতো।” (Rahul Ganhdi News)
আরও পড়ুন: বুড়ো হাড়ে ভেল্কি…আমেরিকায় নীল ঝড়, ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ‘X ফ্যাক্টর’ বারাক ওবামা
রাহুল জানান, ভগবন্তের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। তিনি মদ্যপান করবেন, না করবেন না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পঞ্জাবের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তি রাজ্যে মাদকবিরোধী প্রচারে নেতৃত্ব দেবেন বলেই প্রত্যাশা করেন সকলে।
ভগবন্ত প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, “আমি বলছি না ভগবন্ত মানের মদ্যপান কার উচিত নয়। সেটা ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়। উনি মদ্যপান করতে চাইলে, সেটা একান্তই ওঁর ব্যাপার। কিন্তু মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে এমন কারও মুখ্যমন্ত্রী থাকা উচিত নয়, সন্ধে হতেই যাঁকে মত্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।”
পঞ্জাবে মদ এবং মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে একজন প্রকৃত সমব্যথী, দৃঢ় মানসিকতার নেতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন রাহুল। তাঁর কথায়, “এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি পঞ্জাবের জন্য লড়বেন, যিনি মাদক সেবনের যন্ত্রণা বুঝবেন, যিনি পঞ্জাবের যন্ত্রণাকে অনুভব করবেন।”
রাহুলের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে AAP. দিল্লিতে দলের সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, “রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধেও তো মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু অভিযোগ দিয়ে কিছু হয় না। আমার মনে হয় রাহুল গাঁধী যে জায়গায় রয়েছেন, তাতে এই ধরনের নিম্নরুচির মন্তব্য না করাই ভাল। বিজেপি হোক বা কংগ্রেস, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে কিছু যায় আসে না ওদের। শুধু পঞ্জাবকে আক্রমণ করাই লক্ষ্য।”
তবে শুধু মাত্র AAP-কেই নিশানা করেননি রাহুল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও পঞ্জাবের সভা থেকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, “মাদক নিয়ে কতদিনের টাইমলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন শাহ? তিন বছর না? আগামী তিন বছরে উনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই থাকবেন না।” প্রকাশ্য দিনের আলোয় খুন হয়ে যাওয়া, পঞ্জাবের তারকা শিল্পী সিধু মুসেওয়ালার বাবাও রাহুলের সভায় উপস্থিত ছিলেন। পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, পঞ্জাবে এমন সরকার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন পঞ্জাবে।
BJP News : দেগঙ্গায় তোলাবাজির টাকা না পেয়ে রেস্তোরাঁয় হামলা-মারধর, তোপ BJP-র স্থানীয় নেতাদের দিকে
