নয়াদিল্লি : SIR-এর সময় খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া অধিকাংশ ভোটার এখন ‘ফর্ম ৬’ পূরণ না করেই পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। শুক্রবার এমনই জানাল দেশের নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ এখনও রয়েছে, তবে এটিই একমাত্র বিকল্প নয়। ৬ নভেম্বর দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা ও নাগাল্যান্ডের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, যেসব ভোটারকে ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’ বা ‘দ্বৈত’ হিসেবে চিহ্নিত করে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য “আরও একটি সুযোগ” পাবেন। যাদের আবেদন গৃহীত হবে, তাঁরা তাঁদের আগের EPIC নম্বরটিই ফিরে পাবেন। এর অর্থ হল, তাঁদের নতুন ভোটার হিসেবে গণ্য না করে বিদ্যমান ভোটার হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ১৩ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি মানুষই এই বিভিন্ন ক্যাটেগরির অন্তর্ভুক্ত।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “যেসব নির্বাচককে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা দ্বৈত (ASDD) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে-যাদের তথ্য সংগ্রহের ফর্মগুলি (enumeration forms) ফেরত পাওয়া যায়নি এবং যার ফলে চলতে থাকা এসআইআর (SIR)-এর সময় তাদের খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, এমন নির্বাচকদের বুথভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলির নোটিস বোর্ডে নতুন করে (পুনরায়) প্রদর্শন করতে হবে।”
নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আরও একটি সুযোগ তৈরি হল। তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে ‘ফর্ম ৬’ (Form 6)-এর কোনও প্রয়োজনই নেই। প্রক্রিয়াটি এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। মানুষ এখন নির্ধারিত ঘোষণাপত্র-সহ এনুমারেশন ফর্ম (তথ্য সংগ্রহের ফর্ম) পুনরায় পূরণ করতে পারবেন।” ‘ফর্ম ৬’ হল ‘রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস, ১৯৬০’-এর অধীনে একটি বিধিবদ্ধ আবেদনপত্র, যা যোগ্য নাগরিকরা প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহার করেন। এই ফর্মে প্রদত্ত ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকে যে, আবেদনকারী প্রথমবারের মতো নাম নথিভুক্ত করছেন এবং অন্য কোনও নির্বাচনী এলাকায় তাঁর নাম আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত নেই। ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০’ (জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০)-এর ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
Punjab Train Fire: পাঞ্জাবে ট্রেনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলল আগুন… | ABP Ananda
